চট্টগ্রাম শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১
চট্টগ্রাম শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১

শ্রমজীবী

অন্যান্য সুবিধাদিও আনুপাতিক হারে বাড়ানোর নির্দেশ

চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি বাড়িয়ে ১৭০ টাকা করলেন প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : রবিবার, ২০২২ আগস্ট ২৮, ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন
গণভবনে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে চা বাগান মালিকদের বৈঠক।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১৭০ টাকা করার এবং তাদের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাদিও সে-অনুপাতে বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল ২৭ আগস্ট সন্ধ্যায় তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে চা বাগান মালিকদের সাথে এক বৈঠকে এ নির্দেশ দেন।       

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে তাঁর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস-ও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকশেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিকদের পক্ষ থেকে তাদের দৈনিক বর্ধিত মজুরি হার নির্ধারণ করে দিয়ে তাদেরকে নিজ নিজ কাজে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ  জানিয়েছেন।

চা বাগান মালিক সমিতির সভাপতি শাহ আলমের নেতৃত্বে আগত প্রতিনিধিদলের সদস্য ১৩টি চা বাগানের মালিকেরা এ বৈঠকে যোগ দেন।

মুখ্য সচিব বলেন, শ্রমিকপক্ষের আশা ছিল প্রধানমন্ত্রী তাদের পক্ষ হয়ে মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলে মজুরি বাড়াবেন, সেটি উনি করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী সবাইকে কাজে যোগদান করতে বলেছেন। আগামীকাল থেকে যেন সবাই কাজে যোগ দেয়। শিগরিই প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করবেন বলেও তিনি জানান।

নতুন দৈনিক মজুরি অনুযায়ী চা শ্রমিকদের অন্যান্য সুবিধা আনুপাতিক হারে বাড়বে জানিয়ে আহমদ কায়কাউস বলেন, এখানে ব্যাখ্যা করা দরকার-- চা শিল্পে কিন্তু  শ্রমিকদের বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করা হয়, যেটা মালিক পক্ষ বহন করে। সেক্ষেত্রে সেটা  আনুপাতিক হারে বেড়ে যাবে।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, যেমন নগদ মজুরি ১৭০ টাকা হয়েছে, তার সঙ্গে হবে প্লাকিং বোনাস আর কারখানা অধিকার কাজের আয়-- সেগুলোও আনুপাতিক হারে বাড়বে। বার্ষিক ছুটি ভাতা সেটাও কিন্তু আনুপাতিক হারে বাড়বে, বেতনসহ উৎসব ছুটি আনুপাতিক হারে বাড়বে। অসুস্থতা-জনিত ছুটি সেটাও বাড়বে আনুপাতিক হারে। এর সব কিছুতেই  টাকা দেওয়া হয় বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, ভবিষ্য তহবিলে নিয়োগকর্তার চাঁদা, কাজে উপস্থিতি অনুযায়ী বার্ষিক উৎসব ভাতা সেটাও আনুপাতিক হারে বাড়বে।  এছাড়াও আরো রয়েছে ভর্তুকি মূল্যে রেশন  দেয়, যেটা ২৮ টাকা করে কিনে, দুই টাকায় দেয়া হয় শ্রমিকদের।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বলেন, চিকিৎসা সুবিধা, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের পেনশন, চা শ্রমিক পোষ্যদের শিক্ষা বাবদ ব্যয়, রক্ষাবেক্ষণ এবং অন্যান্য ব্যয়-- এই সবকিছু মিলিয়ে যেটা পড়ে, সেটার হিসাব তাৎক্ষণিকভাবে করা সম্ভব হয়নি। তবে দেখা যাচ্ছে সেটা হয়তো সাড়ে চারশ থেকে পাঁচশ টাকা দৈনিক পড়বে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সভার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সূচনা বক্তব্যে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৭ সালে চা বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন এবং নাগরিকত্ব নেই এমন শ্রমিকদের নাগরিকত্ব প্রদান করেন।

তিনি চা বাগানের শ্রমিকদের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দিয়েছেন বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

 শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের ৯৬ থেকে ২০০১ শাসনামলে তিনি চা শিল্পের গুরুত্ব বিবেচনা করে আরো কিছু সুযোগ-সুবিধা দিয়েছিলেন।

তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সিলেট ও চট্টগ্রাম থেকে পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাটসহ দেশের অন্যান্য স্থানে চা বাগান সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে।

 শেখ হাসিনা বলেন, তারা (চা শ্রমিক) খুব কঠোর পরিশ্রম করে এবং মালিকরা উপার্জন করে; তাদের সুস্থতার দেখাশোনা করা সকলের দায়িত্ব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত, তবে এই অংশের মানুষ যারা খুব পরিশ্রম করে, তাদের সঠিকভাবে যত্ন নিতে হবে।

১২০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা করার দাবিতে বিগত ৯ আগস্ট থেকে আন্দোলনে নামেন চা বাগানের শ্রমিকেরা। সেদিন থেকে চার দিন পর্যন্ত দুঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালনের পর গত ১৩ আগস্ট থেকে তাঁরা অনির্দিষ্টকালের জন্য পুরোদমে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু করেন।

 

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

Video