মিরসরাইয়ে পুলিশের
হেনস্তার প্রতিকার চেয়ে মিরসরাই উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে স্কুল ছাত্রী
ও তার পরিবারের সদস্যগণ। ২০ মে শনিবার সকালে প্রেসক্লাবে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভূক্তভোগী
উপজেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন ৭নং কাঁটাছার ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের পশ্চিম বাড়িয়খালী গ্রামের
আব্দুল ওয়াহাব হাজী বাড়ির মেজবা উদ্দিনের স্ত্রী রোখসানা আক্তার (৩৫)।
এসময় তিনি বলেন,
তার স্বামী একজন ফার্নিচারের নির্মাণ শ্রমিক। গত ১৪ মে ২০২৩ রবিবার রাত সাড়ে ৩ টায়
তাদের বসত ঘরে জোরারগঞ্জ থানায় কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তা- ১। সজীব ২। সঞ্জয় ৩। সরওয়ার
এবং তাদের সাথে থাকা অজ্ঞাত পুলিশ সদস্যগণ হঠাৎ বাহির থেকে দরজা খোলার জন্য চিৎকার
চেঁচামেচি শুরু করে। তাদের চিৎকারে আতংকিত হয়ে ঘরের দরজা খোলার কারণ জানতে চাইলে তারা
বলেন, এখানে মাদক উদ্ধারে আমরা অভিযানে এসেছি। পুলিশ ঘরের চারপাশ ঘিরে রাখে। কারো বিরুদ্ধে
ওয়ারেন্ট না থাকলেও মহিলা পুলিশ ছাড়া তারা ঘরের পেছনে গিয়ে রান্না ঘরের দরজা ভেঙ্গে
ঘরের বেড়ার টিন খুলে ঘরে প্রবেশ করে।
এদেরর কয়েকজনের
গায়ে পুলিশের পোষাক থাকলেও বাকীদের গায়ে পুলিশের পোষাক ছিলো না। তারা ঘরে ঢুকে আলমিরা
খুলে বিভিন্ন জিনসপত্র বের করে ঘরের মেঝেতে ফেলে দেয় এবং আমাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ
করতে করতে জিনিষপত্র এলোমোলো ছুঁড়ে ফেলতে থাকে। এসময় আমার কিশোরী কন্যা বামন সুন্দর
উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী মায়মুনা নুসরাত ইলমা (১৫) আমাদের ব্যবহৃত এনড্রয়েড
মোবাইল দিয়ে পুলিশের এমন অশালীন আচরনের ভিড়িও চিত্র ধারণ করতে চাইলে পুলিশ তার কাছ
থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তা আমার
মেয়ের গালে, পিঠে এবং কাঁধে সজোরে কয়েকটা থাপ্পর মারে। থাপ্পরের আঘাতে আমার মেয়ে মাথা
ঘুরে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। আমার ছোট-জা লায়লা বেগম (৩২) এর প্রতিবাদ করলে তাকেও অকথ্য
ভাাষায় গালিগালাজ করে অপমানিত ও অপদস্থ করে।
পরে কোন কিছু
না পেয়ে তারা আমার একটি এনড্রয়েড মোবাইল এবং ঘরে থানা নগদ অনুমান ২ হাজার টাকা নিয়ে
যায়। যাওয়ার সময় বলে, এসব ঘটনা কাউকে জানালে সবাইকে মামলা দিয়ে জেল খাটাবে। আমার কিশোরী মেয়েকেসহ পুলিশ যেভাবে আমাদের শারীরিক
ও মানসিকভাবে হেনস্থা করেছে, আমি এঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি। সংবাদ সম্মেলনে রোখসানার
স্বামী মেজবা উদ্দিন এবং তাদের কন্যা মায়মুনা নুসরাত ইলমা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে রোখসানা
আক্তার বাদী হয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (মিরসরাই সার্কেল এএসপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের
করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী পুলিশ সুপার মিরসরাই (সার্কেল এএসপি) ইফতেখার হাসান পিপিএিম বার বলেন, আমি বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্বপালন করছি। এধরনের কোন অভিযোগ সম্পর্কে আমার জানা নেই।
- নাছির উদ্দিন/মিরসরাই
মন্তব্য করুন