চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মেলখুম ঝর্ণায় বেড়াতে এসে গহীন পাহাড়ে
পথ হারানো ৪ কলেজ ছাত্রকে ৬ ঘন্টা চেষ্টার পর উদ্ধার করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ।
১৪ মার্চ মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯-এর কলের ভিত্তিতে পথহারা ঐ ৪
পর্যটককে গহীন পাহাড়ী এলাকা থেকে মানসিক বিপর্যস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয়
জরুরী সেবা থেকে কলে জোরারগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসারের নাম্বারে সংযোগ করা হয়।
সংযোগে জানানো হয়, জোরারগঞ্জ থানাধীন সোনাপাহাড় এলাকায় মেলখুম ঝর্ণায় বেড়াতে এসে ৪
কলেজ ছাত্র পথ হারিয়ে গহীন অরন্যে চলে যায়। এসময় তারা বনের ভেতর অজ্ঞাত টিলায়
অবস্থান করে। যেখানে পাহাড়ের চূড়ায় উঠলে মাঝেমাঝে মোবাইলের নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়।
এই সংবাদের ভিত্তিতে থানার অফিসার ইনচার্জ জাহিদ হাসানের নেতৃত্বে, সেকেন্ড অফিসার
এসআই আল মাহমুদ শরীফ ও এসআই মামুনুর রশিদ সংগীয় ফোর্স নিয়ে প্রযুক্তির সহায়তায়
প্রায় ৫-৬ কিলোমিটার পাহাড়ী পথ অতিক্রম করে তাদেরকে সন্ধ্যা সাড়ে ৫ টার সময় গহীন
অরণ্য থেকে মানসিক বিপর্যস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে। পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত পর্যটকদের
খাবার পানি ও হালকা খাবার দিয়ে স্বাভাবিক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
উদ্ধারকৃত পর্যটকরা হলেন - কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানার
২নং উজিরপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রতাপপুর গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে আদনান সামী
(২০), সে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্র। একই এলাকার বেলঘর
গ্রামের ফিরোজ আহম্মেদের ছেলে মোতাহের হোসেন (২৪), সে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের
অনার্স ৪র্থ বর্ষের ছাত্র। বাহার মোল্লার ছেলে ইফতেখার হোসেন (২৪), সে ঢাকা কলেজের
অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র এবং একই এলাকার সোয়ারবিল গ্রামের জুন্তুর আলীর ছেলে
মোহাম্মদ মহসিন হোসেন (২৪), সে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের অনার্স ৪র্থ বর্ষের
ছাত্র।
উদ্ধার হওয়া পর্যটক মোতাহের হোসেন জানান, তারা সবাই বন্ধু।
ইউটিউবে এই ঝর্ণার খবর দেখে নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়ে এখানে ঘুরতে আসেন। ঝর্ণায়
যাওয়ার সময় স্থানীয় কারো সহায়তা না নেয়ায় পথঘাট চিনতে কষ্ট হয়েছে। ফলে পথভুলে তারা
একটি পাহাড়ে আশ্রয় নেন। সেখানে মোবাইলের নেটওয়ার্কও পাওয়া যাচ্ছিলো না। পাহাড়ের
চূড়ায় উঠে জাতীয় জরুরী সেবায় (৯৯৯) ফোন করলে পরে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ তাদের
উদ্ধার করে। তিনি স্বীকার করে বলেন, কোন স্থান সম্পর্কে ভালোভাবে না জেনে এবং
স্থানীয়দের সহায়তা না নিয়ে যাওয়া ঠিক নয়। তাদের এভাবে আসাটাও ভুল হয়েছে।
জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ জাহিদ হাসান বলেন, পর্যটক উদ্ধারে সহায়তার কথা শুনে থানা থেকে পুলিশ ফোর্স পাঠিয়ে পর্যটকদের উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে এবং তাদের পরিবারের সাথে কথা বলে নিজ জিম্মায় তাদেরকে নিজ নিজ বাড়ীতে পাঠানো হয়েছে।
- নাছির উদ্দিন/মিরসরাই
মন্তব্য করুন