সন্দ্বীপ-সীতাকুন্ড
নৌরুটে ফেরি চলাচলের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ২০২২ সালের অক্টোবরে সন্দ্বীপ এসেছিলেন
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন অতিরিক্ত সচিব এসএম ফেরদৌস আলম, বিআইডব্লিউটি-এর চেয়ারম্যান
কমোডর গোলাম সাদেক, বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান শামীম আল রাজীসহ নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের
উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ। সে সময় তারা আশ্বাস দিয়েছিলেন ২০২৩ সালের শুষ্ক মৌসুমেই
চালু হবে সন্দ্বীপ-সীতাকুন্ড ফেরি সার্ভিস যেটি চলবে সন্দ্বীপের গাছুয়া ও সীতাকুন্ডের
বাঁকখালী দিয়ে।
তবে দুই বছর হয়ে
গেলেও ফেরি চলাচলের জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়নের দৃশ্যমান কোন কার্যক্রম এর মধ্যে নেয়া
হয়নি। এদিকে ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলে আবার তোড়জোড়
শুরু হয় সন্দ্বীপ-সীতাকুন্ড নৌরুটে ফেরি সার্ভিস চালু করার। এ লক্ষ্যে বিআইডব্লিউটি-এর
উদ্যোগে গত ১৯ আগস্ট গঠিত হয় একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি।
এরই ধারাবাহিকতায়
রবিবার সকালে চট্টগ্রাম পার্শ্বে সীতাকুণ্ডের কুমিরা ঘাটের সাইট নির্ধারণ ও সন্দ্বীপ
প্রান্তে কোন ঘাট দিয়ে ফেরি চলাচল করতে পারবে সে সম্ভাব্যতা যাচাই ও সন্দ্বীপ প্রান্তে
উপকূলীয় বন্দর ঘোষণার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য পরিদর্শনে আসেন উক্ত কমিটির সদস্যরা।
এসময় কমিটির আহবায়ক
ও বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন জানান, গঠিত এ কমিটি গত ২২ আগস্ট কুমিরা ঘাটে সন্দ্বীপের রাজনৈতিক
ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার সাথে যে মতবিনিময়
অনুষ্ঠিত হয় সেখানে সন্দ্বীপবাসীর দীর্ঘদিনের দাবীর প্রেক্ষিতে স্পিডবোটসহ নৌযানের
ভাড়া কমিয়ে দেয়া হয়। এছাড়া কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌরুটকে উন্মুক্ত করে দেয়ার ঘোষণাও এসময়
দেয়া হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, সেদিন থেকে সন্দ্বীপের যে কেউ বিআইডব্লিউটিএ
ও নৌ বাণিজ্য অধিদপ্তর থেকে অনুমতি নিয়ে এ নৌরুটে স্পিডবোটসহ নৌযান চালাতে পারবে।
এসময় আরো উপস্থিত
ছিলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ছন্দা পাল, বিআইডব্লিউটিসির ডিজিএম
(বাণিজ্য) গোপাল চন্দ্র মজুমদার, বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম-পরিচালক মোবারক হোসেন, যুগ্ম
পরিচালক সবুর খান, প্রকৌশলী এস.এম আশরাফুজ্জামান, নির্বাহী প্রকৌশলী (ড্রেজিং) রেজাউর
রশীদ খন্দকার, উপপরিচালক (চট্টগ্রাম) মো. কামরুজ্জামান,
সহকারী পরিচালক নয়ন শীল প্রমুখ।
এর আগে বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা কুমিরা ঘাটে এসে পৌছালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য মিজানুর রহমান ভুইঁয়া মিল্টন তার প্রতিনিধি দলের মাধ্যমে তার দলের পক্ষ থেকে ফেরি সার্ভিস ও উপকূলীয় বন্দর সম্ভাব্যতা যাচাই কমিটির কাছে সন্দ্বীপের চার লক্ষ মানুষের নিরাপদ নৌ যাতায়াতের স্বার্থে একটা লিখিত বার্তা দেন। এছাড়া সন্দ্বীপবাসীর পক্ষে এসময় উপস্থিত ছিলেন, সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাসিরুল কবির মনির তালুকদার, গণ সংহতি নেতা মনিরুল হুদা বাবন, সন্দ্বীপ পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক আহসানুল কবির তালুকদার, সদস্য সচিব আবুল বশর কাউন্সিলর, এডভোকেট সেকান্দর বাদশা, সাংবাদিক সালেহ নোমান, সন্দ্বীপ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফয়সাল, সংবাদকর্মী ইলিয়াছ সুমন, সন্দ্বীপ রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিলাদ মোদাচ্ছির ও শামসুল আজম মুন্না, ফছিহুল আলম, মগধরা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান কাউছার, বহিঃবিশ্ব জাতীয়তাবাদী ফোরামের সহ-সভাপতি আবদুল কাদের শিপন ও মো. মিলাদ, বিএনপি নেতা ইদ্রিস আলমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
- মা.ফা.
মন্তব্য করুন