অনুমোদিত ওজনের বাইরে অতিরিক্ত পণ্য নিয়ে
আঁকা-বাঁকা পাহাড়ী পথে ঝুঁকি নিয়ে চলছে কাঠ-বাঁশ বোঝাই ট্রাক। বন বিভাগ ও পুলিশের সামনে
দিয়ে প্রতিদিন পাহাড়ী সড়ক হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এসব গাড়ী চললেও দেখার যেন কেউ
নেই। কোন ধরণের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় সড়ক গুলোতে ঝুঁকি নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে
তারা। অভিযোগ রয়েছে বন বিভাগ এবং পুলিশ প্রশাসনের কিছু অসাধু লোকজন টাকার বিনিময়ে এসব
গাড়ীগুলোর বিরুদ্ধে কোন প্রকার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করে ছেড়ে দেন। অথচ একটি দূর্ঘটনা
ঘটলে তাদের জানমালের যেমন ক্ষয়ক্ষতি হবে। সৃষ্ট দূর্ঘটনার কারণে বিপদের সম্মুখিন হবে
অন্য যানবাহন গুলোও।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খাগড়াছড়ি থেকে
রামগড় হয়ে আঁকা-বাঁকা পাহাড়ী সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে অতিরিক্ত মালবাহী এসব ট্রাক। প্রতিদিন
কাঠ-বাঁশ বোঝাই ট্রাকগুলো মীরসরাইয়ের বারইয়ারহাট হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চষে দেশের
বিভিন্নস্থানে চলে যাচ্ছে। অথচ এই সড়কগুলো অতিক্রম করার সময় তারা বিজিবি, বন বিভাগ,
থানা পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের সামনে দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সরকারী এত সংস্থা
দেখার পরও এসব ঝুঁকিপূর্ণ ট্রাকগুলো চলাচল করলেও কেউ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যবস্থা
গ্রহণ করছে না। উল্টো অভিযোগ রয়েছে এসব ট্রাকে পণ্য বোঝাই করার পর থেকে নির্ধারিত গন্তব্যে
পৌঁছানো পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সরকারী প্রতিটি সংস্থাকে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে যেতে
হয়। আর এতেই বুঝা যায় যে, শস্যের ভেতর যেন ভূতের বসবাস।
সারাদেশের ২২ টি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের
মধ্য দেশের লাইফ-লাইন খ্যাত অন্যতম একটি সড়ক হলো, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। অতিরিক্ত
পণ্যবহনকারী গাড়ি চলাচলের কারণে প্রতনিয়ত ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক।
পাশাপাশি ঘটছে দুর্ঘটনা। অনুমোদিত ওজন অনুযায়ী পণ্য পরিবহনে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা
আন্তরিক নন। অথচ একটু লোভ সামলালে সড়কের নিরাপত্তা অনেকটা নিশ্চিত করা যায়। অন্যদিকে
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা বলছেন, অতিরিক্ত পণ্য পরিবহনের জন্য চালক-মালিকেরা দায়ী নন।
কোম্পানী এবং বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের চাপে তাঁরা অতিরিক্ত পণ্য বহন করতে বাধ্য হন।
সড়ক ও জনপদ কর্তৃক প্রাপ্ত তথ্যে জানা
যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পণ্যবাহী ১৮ চাকার গাড়ির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৭ টন, ১৪
চাকার গাড়ির ক্ষেত্রে ২৫ টন এবং ৬ চাকার গাড়ির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাড়ে ১৫ টন ওজন বহনের
অনুমোদন রয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। এরচেয়ে ডবল ওজনের পণ্য নিয়ে চলাচল করছে
ট্রাকগুলো।
আন্তঃজেলা মালামাল পরিবহন সংগঠনের নেতারা
বলেন, চালকরা অতিরিক্ত ওজন নিতে আগ্রহী নয়, কিন্তু আমাদের বাধ্য করা হয়। অনেক সময় চালককে
টাকা বাড়িয়ে দিয়েও অতিরিক্ত পণ্য নেয়ার রফা করা হয়।
এ বিষয়ে করেরহাট বন বিটের স্টেশন অফিসার
শিবু দাশের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই করা অপরাধ। যেখান থেকে
ট্রাকগুলো লোড করা হয় সেখানকার দায়িত্বশীলরা যদি সচেতন হয় ট্রাকগুলো আর ঝুঁকি পূর্ণ
হয় না। গাড়ীর সাথে থাকা কাগজপত্রের সাথে পণ্য মিলাতে হলে সবগুলো পণ্য খালাস করে গুনে
দেখতে হবে। আমরা লেবার সংকটের কারণে অনেক সময় এই অতিরিক্ত পণ্যগুলো আলাদা করতে পারি
না। তবে কাগজপত্র চেক করার সময় কোন প্রকার টাকা নেয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার অফিসার
ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসেন বলেন, অতিরিক্ত পণ্য নিয়ে আমার দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকা অতিক্রমকালে,
যে ট্রাকগুলো আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা
হয়। গত কয়েকমাসে অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই গাড়ীগুলোর বিরুদ্ধে কয়টি মামলা দেওয়া হয়েছে জানতে
চাইলে তিনি বলেন, এগুলো রেজিষ্টার দেখে বলতে হবে।
-নাছির উদ্দিন/মিরসরাই
মন্তব্য করুন