লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে বুধবার, ১ জুন
রাতে বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন ও কোপা আমেরিকা জয়ীর মধ্যেকার ‘ফিনালিসিমা’ (চূড়ান্ত নিষ্পত্তি) ম্যাচে ইতালিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে এক বছরের মধ্যে
দ্বিতীয় শিরোপা জিতল আর্জেন্টিনা। বছর দুই
আগে এ মাঠেই ইউরো জয়ের উৎসব করেছিল ইতালি।
কিন্তু এবার সেখানে ফেরাটা জয়ের রঙে রাঙাতে পারল না তারা।
আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে পুরোটা সময়ই আধিপত্য
করেছে আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধে জোড়া গোল করে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধেও চাপ ধরে রাখে কোপা আমেরিকা জয়ীরা। ইউরোপ চ্যাম্পিয়নদের হারানোর মধ্য দিয়ে লিওনেল স্কালোনির
দলের মুকুটে যোগ হলো নতুন পালক।
উজ্জীবিত পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরা হন মেসি।
দুটি গোল হয় প্রথমার্ধে। লাউতারো মার্তিনেস দলকে এগিয়ে নেয়ার পর ব্যবধান
দ্বিগুণ করেন আনহেল দি মারিয়া। শেষদিকে তৃতীয় গোলটি করেন পাওলো দিবালা।
গত বছরের জুলাইয়ে ব্রাজিলকে তাদের মাঠেই হারিয়ে কোপা আমেরিকা জিতেছিল আর্জেন্টিনা। তাদের এই মহাবিজয়ের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্বের আরেক
প্রান্তে মাঠে গড়ায় ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল। সে-লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে
নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো ইউরো জয় করে ইতালি।
এর পর থেকে রবের্তো মানচিনির দলটি যেন ছন্দ
হারিয়ে ফেলেছে। আচমকা পথ হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে
উঠতে ব্যর্থ হয়েছে ইতালি। সে-ব্যর্থতা পেছনে
ফেলে ম্যাচের আগের দিন নতুন শুরুর ঘোষণা দিয়েছিলেন ইতালি্র অধিনায়ক লিওনার্দো বোনুচি। আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে তিনি নতুন করে দলটির শক্ত ভিত গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত
করেছিলেন, যদিও মাঠে তার প্রমাণ রাখতে পারেননি মানচিনির শিষ্যরা।
জর্জো কিয়েলিনির শেষটা হলো তাই হতাশার মধ্যে দিয়েই। এ ম্যাচ দিয়েই ইতালির হয়ে সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারের ইতি
টানলেন ১১৮ ম্যাচ খেলা এই ডিফেন্ডার।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনা অপ্রতিরোধ্য গতিতে। এগুচ্ছে,
এ জয়ই তার আরেক প্রমাণ। এ শিরোপার গুরুত্ব
তেমন বেশি না হলেও, খুব কমও কিন্তু নয়। বছরখানেক
আগেও যে-দলটির ছিল একটা শিরোপার জন্য হাহাকার, সে-দলটিই গত বছর কোপা আমেরিকা জিতে কাটায়
২৮ বছরের শিরোপা খরা। আর এবার জিতল বিশেষ
এই ট্রফি।
মন্তব্য করুন