চুক্তির ‘মেয়াদ শেষের পরও’ তার ‘ব্র্যান্ড ইমেজ’ ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ এনেছেন এই ক্রিকেটার।
চুক্তির ‘মেয়াদ
শেষ হয়ে যাওয়ার পরও’ ব্র্যান্ড ইমেজ ব্যবহারের অভিযোগ এনে ৫ কোটি ৮০ লাখ ৫০ হাজার টাকা
ক্ষতিপূরণ চেয়ে বাংলালিংক ও যমুনা ব্যাংককে উকিল নোটিস পাঠিয়েছেন ক্রিকেটার সাকিব আল
হাসান।
বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশন্স
লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং যমুনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে
কুরিয়ার সার্ভিস ও রেজিস্ট্রি ডাকযোগে গতকাল ২৪ জুলাই সাকিবের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের
আইনজীবী আশরাফুল হাদী এই নোটিস পাঠিয়েছেন।
নোটিসে বলা হয়, বাংলালিংকের
সঙ্গে ছয় বছর আগে সাকিবের যে চুক্তি হয়েছিল, তা ছিল দুই বছর মেয়াদের। সে মেয়াদ ফুরোনোর
পরও এই তারকা ক্রিকেটারকে বিজ্ঞাপনে বাংলালিংক যমুনা ব্যাংকের বুথে ব্যবহার করা হচ্ছে।
সাকিবের ‘ব্র্যান্ড
ইমেজ’ নিজেদের ব্যবসায়িক কাজে সীমিত ব্যবহারের জন্য ২০১৪ সালের ২১ জানুয়ারি
বাংলালিংক চুক্তি করে। ২০১৬ সালের ২০ জানুয়ারি চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়।
নোটিসে বলা হয়, এরপর বাংলালিংক
সাকিব আল হাসানের ছবি, ব্র্যান্ড, স্বাক্ষর সম্বলিত কোনো ছবি বিজ্ঞাপনে ব্যবহার আর
করবে না, এটাই ছিল চুক্তির শর্ত।
“কিন্তু বাংলালিংক চুক্তি ভঙ্গ করে বেআইনিভাবে যমুনা ব্যাংকের এটিএম
বুথসহ আরও অন্যান্য ক্ষেত্রে সাকিব আল হাসানের ছবি, ব্র্যান্ড, স্বাক্ষর সম্বলিত ‘ইমেজ,
অ্যাডভারটাইজমেন্ট’ প্রচার করছে নিজেদের ব্যবসায়ীক স্বার্থ অন্যায়ভাবে হাসিলের জন্য।”
এতে চুক্তি ভঙ্গ ছাড়াও ডিজিটাল
নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এর ২৬ ধারা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর ৪৪ ধারা, কপিরাইট
আইন-২০০০ এর ৮২ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারার লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে সাকিবের অভিযোগ।
নোটিসে সাকিব আল হাসানের
ছবি, স্বাক্ষরসহ তার ব্র্যান্ড ইমেজ বিজ্ঞাপনে আর ব্যবহার না করতে অনুরোধ করা হয়। সেই
সঙ্গে গত সাড়ে ৬ বছরে বাংলালিংক ও যমুনা ব্যাংক সাকিব আল হাসানের ব্র্যান্ড ইমেজ ব্যবহার
করে কত টাকা মুনাফা করেছে, তার হিসাবও চাওয়া হয়।
সাকিব আল হাসানের আইনজীবী
আশরাফুল হাদী বলেন, “চুক্তির মেয়াদ শেষে স্পষ্ট শর্ত অনুসারে সাকিব আল হাসানের ছবি, ব্র্যান্ড
ইমেজ কোথাও ব্যবহার করা যাবে না। তা সত্ত্বেও এই চুক্তি ভঙ্গ করে বাংলালিংক এবং যমুনা
ব্যাংক এই অ্যাডভারটাইজমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। এর জন্য বাংলালিংক এবং যমুনা ব্যাংক
উভয়ই দায়ী। এটার জন্য আমরা ক্ষতিপূরণ চেয়ে লিগ্যাল নোটিস পাঠিয়েছি।”
তিনি বলেন, “নোটিসে
এই ধরনের যত ইমেজ আছে সেগুলো দ্রুত মার্কেট থেকে প্রত্যাহার করতে বলেছি। এছাড়া গত ছয়
বছর ধরে এর পেছনে যত অসাধু লাভ করেছে এই মুনাফা দিয়ে কী করেছে তার হিসাব চাওয়া হয়েছে।”
নোটিস পাওয়ার সাত দিনের
মধ্যে প্রাথমিক ক্ষতিপূরণসহ অভিযোগের লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তাতে ব্যর্থ হলে
ফৌজদারি মামলাসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে সাকিব আল হাসানকে নিজেদের
বিজ্ঞাপনে প্রচার করা হয়নি বলে যমুনা ব্যাংক থেকে দাবি করা হয়েছে।
ব্যাংকটির জনসংযোগ বিভাগের
প্রধান মো. সারোয়ার মতিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আইনি
নোটিসটি এখনও আমরা পাইনি।
“তবে যমুনা ব্যাংকের গত ২০ বছরের ইতিহাসে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে ব্যবসায়িক
বা বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।”
বাংলালিংকের হেড অফ কর্পোরেট কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড সাস্টেনিবিলিটি আংকিত সুরেকা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এই ব্যাপারে আমাদের কাছে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নোটিস আসেনি। তাই বিষয়টি সম্পর্কে আমরা এই মুহূর্তে মন্তব্য করতে পারছি না।”
মন্তব্য করুন