১৫ অক্টোবর শনিবার চট্টগ্রাম জেলার দোহাজারি সড়ক
বিভাগের অধীন সেতু দুটির শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন সড়ক
পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং টিম-১।
এ মাসেই উদ্বোধন হতে যাচ্ছে চট্টগ্রামবাসীর বহুল
প্রতিক্ষীত বরকল ও কালারপোল সেতু। ইতোমধ্যে নির্মাণ কাজ শেষে করা হচ্ছে
দৃষ্টিনন্দন। এখন চলছে শেষ মুহুর্তের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা।
মহাসড়ক যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে
দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার স্বার্থে এবং জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের
লক্ষ্যে দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ মহাসড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার নিমিত্তে বরকল ও
কালারপোল সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। মইজ্জারটেক-বোয়ালখালী-কানুনগোপাড়া-উদরবন্যা জেলা
মহাসড়কের মধ্যে কর্ণফুলি খালের উপর এ সেতুটির অবস্থান। এ সড়কে শিকলবাহা বিদ্যুৎ
উৎপাদন কেন্দ্র, ওয়েস্টার্ন মেরিন শীপইয়ার্ডসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প
প্রতিষ্ঠান ও রয়েছে। সেতুটির পূর্বাংশ কর্ণফুলী টানেলে সংযোগ সড়কের সাথে এবং পশ্চিমাংশ
মইজ্জারটেক হয়ে চট্টগ্রাম নগরীর সাথে সংযুক্ত হওয়ায় এটি জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি
অর্জনে ইতিবাচক অবদান রাখবে। একই সাথে যাতায়াতের সুবিধাসহ জনসাধারণের সময় ও অর্থের
সাশ্রয় হবে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আবু
নাছের মনিটরিং টিমের নেতৃত্ব দেন। টিমের অন্য সদস্যগণ হলেন মন্ত্রণালয়ের সহকারী
সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোফাজ্জল
হায়দার।
মনিটরিং টিম প্রথমে কর্ণফুলি উপজেলার কালারপোল
ওহিদিয়া সেতু পরিদর্শন করেন। প্রায় ১৮০.৩৭৩ মিটার দীর্ঘ ও ১০.২৫ মিটার প্রস্থের এ
সেতুর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। এর পাশে ৫৫০ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে ।
সম্পূর্ণ বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে এ সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২৪.৭৩ কোটি টাকা।
সেতুটি পটিয়া ও কর্ণফুলী উপজেলাকে সংযুক্ত করেছে।
পরিদর্শন টিম পরবর্তীতে
গাছবাড়িয়া-চন্দনাইশ-বরকল-আনোয়ারা সড়কের চাঁদখালী নদীর উপর নির্মিত বরকল সেতু
পরিদর্শন করেন। সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২৩.৯৯ কোটি টাকা যা সম্পূর্ণ বাংলাদেশ
সরকারের তহবিল হতে যোগান দেওয়া হয়েছে। এটি ১১৭.৩১ মিটার দৈর্ঘের ও ১০.২৫ মিটার
প্রস্থের পিসি গার্ডার সেতু। সেতুর উভয় পাশে ৭৭০ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা
হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ৩.৭৯ কোটি টাকা। এছাড়া এ সেতুর দু’পাশে
২০০ মিটার রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে যাতে ব্যয় হয়েছে ২.০১ কোটি টাকা।
দৃষ্টিনন্দন এ সেতুটি নির্মাণের পূর্বে এখানে
জরাজীর্ণ বেইলী সেতু ছিল। যাতায়াত ব্যবস্থা ছিলো অত্যন্ত কষ্টকর। তাই যোগাযোগ
ব্যবস্থা সচল রাখার স্বার্থে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুটির পশ্চিমাংশ পটিয়া-
আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং আঞ্চলিক মহাসড়কের সাথে এবং পূর্বাংশ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার
জাতীয় মহাসড়কের সাথে সংযুক্ত হওয়ায় এটি জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান
রাখবে। এর ফলে বান্দরবান জেলার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নততর হবে। চন্দনাইশ ও
আনোয়ারা উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হবে। বঙ্গবন্ধু টানেল
চালু হলে টানেলগামী কিছু পরিবহন বরকল সেতু ব্যবহার করে গাছবাড়িয়া-আনোয়ারা সড়কে
চলাচল করবে।
সেতু পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন দোহাজারি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন সিংহসহ প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।
- মা.ফা
মন্তব্য করুন