চট্টগ্রাম শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১
চট্টগ্রাম শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১

চট্টগ্রাম সংবাদ

এখনো বিএম ডিপোর পশ্চিম পাশের কয়েকটি কনটেইনারে আগুন জ্বলছে ও আশপাশের আরও কয়েকটি কনটেইনার থেকে ধোয়া বের হচ্ছে

সীতাকুন্ডে বিএম কন্টেইনার ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : সোমবার, ২০২২ Jun ০৬, ০৬:১৭ অপরাহ্ন
দুর্ঘটনার আগে বিএম কন্টেইনার ডিপো

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় বিএম কন্টেইনার ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের সুত্রপাত হয় শনিবার রাত সাড়ে ৯টায়। আগুন বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এখনো পুরোপুরি নেভেনি। এখনো বিএম ডিপোর পশ্চিম পাশের কয়েকটি কনটেইনারে আগুন জ্বলছে ও আশপাশের আরও কয়েকটি কনটেইনার থেকে ধোয়া বের হচ্ছে। বিস্ফোরণের ঘটনার দুই দিন পার হলেও টানা ৩৬ ঘণ্টা ধরে নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। একইসাথে ঘটনাস্থলে কাজ করছে সেনাবাহিনী। কিন্তু এখনো আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। সকালে ডিপোর ভিতরে আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক আনিসুর রহমান।


৬ জুন দুপুরে ডিপোর গেটে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের ১৮ ব্রিগেডের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম হিমেল বলেন, সীতাকুণ্ডের ডিপোতে আগুনের পর বিস্ফোরণের ঘটনায় রাসায়নিক পদার্থ থাকা চারটি কনটেইনার আমরা চিহ্নিত করেছে। এই কন্টেইনারগুলো বিশেষ পদ্ধতিতে অপসারণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাছাড়া রাসায়নিক মিশ্রিত পানি যাতে সমুদ্রে ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্য আমরা কাজ করছি। তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ড ও ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯ জন হয়েছে। দগ্ধ ও আহত দুই শতাধিক মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মো. ইলিয়াস হোসেন চৌধুরী জানান, নিহতদের মধ্যে ডিপোর শ্রমিকদের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের ৯ সদস্যও রয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনাস্থলে থাকা সীতাকু- থানার অফিসার ইনচার্জ সুমন বণিক বলেন, ভয়াবহ কনটেইনার বিস্ফোরণের ঘটনায় এখনও অর্ধশত মানুষের খোঁজ পাওয়া যায়নি।


ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহত ৪৯ জনের মধ্যে ২২ জনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অবশিষ্টদের পরিচয় শনাক্তের জন্য ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সেবা তত্ত্বাবধায়ক মোছা. ইনসাফি হান্না বলেন, অজ্ঞাত মরদেহগুলোর চেহারা চেনা যাচ্ছে না। অনেকের চেহারা পুড়ে বিকৃত হয়ে গেছে। ফলে যাদের স্বজনরা এখনও নিখোঁজদের খুঁজছেন তারা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে নির্ধারিত স্থানে যোগাযোগ করলে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা নেয়া হবে।

অগ্নিকান্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম কাস্টমস, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর তিনটি পৃথক কমিটি গঠন করেছে। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা প্রদান ও পরিস্থিতি মোবাবেলায় স্বাস্থ্য বিষয়ক মনিটরিং কমিটি গঠন করেছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। 

তথ্যসূত্র বাসস

- মা ফা/ জা হো ম 

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

Video