এলাকাবাসীর দেয়া গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার জনবহুল তুলাতুলী এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার জব্দ করেছে র্যাব-৭। দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসাধু সিন্ডিকেট অবৈধ চোরাই এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার সংগ্রহ করে সেগুলো কেটে টুকরা করে বিভিন্ন রি-রোলিং মিলে বিক্রি করে আসছিল। সম্প্রতি বিএম কন্টেইনার ডিপোর ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনার পর চোরাই এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশংকায় র্যাব-৭ কে খবর দেয় শংকিত এলাকাবাসী।
এরই ধারাবাহিকতায় ৮ জুন হতে ৯ জুন পর্যন্ত র্যাব-৭ এর একটি আভিযানিক দল সীতাকুন্ড ভাটিয়ারী ইউনিয়নের তুলাতুলি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সিন্ডিকেটের মুল হোতা মো.ইসমাইল হোসেন কুসুম (৫১), পিতা-মৃত হাজী শফিউর রহমান, মো. মহসীন (৫১), পিতা মৃত-ফয়েজ আহাম্মদ, মো.নুরুন নবী(৪৮), পিতা-মৃত ছিদ্দিক আহম্মেদসহ ৯ জনকে আটক করে এবং আসামীদের তত্ত্বাবধানে থাকা কুসুমের ডিপো, ফকিরা মসজিদের উত্তর পাশ, কবির ষ্টিলের পরিত্যাক্ত বিল্ডিং-এর দক্ষিন পাশ ও আশেপাশের এলাকা থেকে প্রায় ১০,০০০টি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার যার মধ্যে আনুমানিক ২,০০০টি কাটা অবস্থায় উদ্ধার করে র্যাব। এছাড়াও চোরাই গ্যাস সিলিন্ডার পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ২টি ট্রাকও আটক করা হয়।
এলপিজি বিধানেব ৯১ ধারা মোতাবেক সিলিন্ডারের আকার আকৃতি পরিবর্তন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিস্ফোরক পরিদপ্তরের ছাড়পত্রের মাধ্যমে প্রথমে একটি গ্যাস সিলিন্ডার ১০ বছর ব্যবহারের পর পুনরায় পরীক্ষা করে ব্যবহারের উপযোগী হলে আরো ৫ বছর ব্যবহারের পর বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সদস্যদের উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানী এলপিজি সিলিন্ডার ধ্বংস করার কথা। গ্যাস সিলিন্ডার বাইরে কাটা সর্ম্পূন নিষেধ কিন্তু আসামীরা কোন প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার জন্য চোরাইভাবে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার সংগ্রহ করে সেগুলো কেটে বিভিন্ন রি-রোলিং মিলে সরবরাহ করে থাকে।
পরিবেশ দুষন ও এলাকাবাসী অত্যন্ত দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে থাকলেও সিন্ডিকেটের লোকদের ভয়ে তারা কোথাও অভিযোগ করত না। আসামীদের গ্রেফতারের ফলে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।
- সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
- মা ফা / জা হোম
মন্তব্য করুন