চট্টগ্রাম শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১
চট্টগ্রাম শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১

চট্টগ্রাম সংবাদ

সামগ্রিকভাবে উদ্যোগ নিলে মাদক বিরোধী যুদ্ধে বিজয় আসবেই

মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : সোমবার, ২০২২ Jun ২৭, ০৪:১৩ অপরাহ্ন
মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো.আশরাফ উদ্দিন

বর্তমান সমাজে মাদক হচ্ছে একটি ভয়াবহ ব্যাধি। এ ব্যবসায় সমাজ ও দেশ ধবংস হয়। মাদক একেবারে নির্মূল করা না গেলেও সমন্বিত উদ্যোগে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। জনগণ সচেতন না হলে শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। সন্তানদেরকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে মাদকের ভয়াবহতা থেকে তাদেরকে দুরে রাখতে পারিবারিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে। মাদককে না বলে সমাজ ও দেশ থেকে মাদক রোধে সবাইকে স্বোচ্চার হতে হবে। মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো.আশরাফ উদ্দিন

 

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আরো বলেন জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিমুক্ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে আমাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে।

 

২৬ জুন রবিবার সকালে নগরীর স্টেশন রোডস্থ পর্যটন মোটেল সৈকতের পার্কি হলে

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত  মাদক সেবন রোধ করি, সুস্থ সুন্দর জীবন গড়ি  শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণের চেয়ে মাদক রোধ কঠিন হলেও জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা পেলে সফলতা আসবে। এক সময় সারাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছিল, রোধ করেছি। মাদকও রোধ করতে হবে। সামগ্রিকভাবে উদ্যোগ নিলে মাদক বিরোধী যুদ্ধে বিজয় আসবেই। দেশকে মাদকমুক্ত করতে প্রয়োজনে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মাদকের চাহিদা কমলে সরবরাহ কমে যাবে। মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা দূরীভূত করতে হবে।

 

আয়োজিত মাদকবিরোধী আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, আমাদের সন্তানরা বা প্রজন্ম যদি এখনই সচেতন না হয়ে বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে মাদক গ্রহণ করে,তাহলে তার পরিবার ধ্বংস হয়ে যাবে। সন্তানেরা কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে, কি করছে তা প্রত্যেক পিতা-মাতা অভিভাবক কঠোরভাবে মনিটরিং করলে তারা আর মাদকে জড়াবে না। সন্তানদের নিয়ে আমাদেরকে সব সময় সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের যে উদ্যোগ সেটাকে স্বাগত জানাতে হবে। নিজেদের সচেতন হতে হবে এবং মাদক নির্মুলে পরিবার থেকেই এগিয়ে আসতে হবে। বক্তারা আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মাদকের বিরুদ্ধে যে উদ্যোগ নিয়েছেন তাতে কোন মাদক ব্যবসায়ী, সেবনকারী ও বহনকারী কেউ রেহাই পাবে না। যারা সিগারেট টানে তারা কিন্তু সবাই মাদকাসক্ত না হলেও মূলত সিগারেট থেকেই মাদকের সূত্রপাত। স্কুল-কলেজ মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোড়া ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মাদক বিরোধী প্রচার প্রচারনা অব্যাহত রাখা গেলে দেশ একদিন মাদকমুক্ত হবে। আমাদের সমাজকে মাদকমুক্ত করতে হলে সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার বিকল্প নেই।

 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মজিবুর রহমান পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. জাকির হোসেন খান, সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো.  শামসুল আলম, জেলা পুলিশ সুপার এস.এম রশিদুল হক, র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লে.  কর্ণেল এম.এ ইউসুফ, বিজিবি-৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.  কর্ণেল আহমেদ হাসান জামিল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মু. মাহমুদ উল্লাহ মারুফ ও কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের লে. কমান্ডার রাসেল মিয়া।স্বাগত বক্তব্য রাখেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলার উপ-পরিচালক মুকুল জ্যোতি চাকমা।

 

সভায় নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন সদ্য মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা ব্যক্তি সৌমেন চৌধুরী অরূপ এবং উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন মানবাধিকার কর্মী ইলমার প্রধান নির্বাহী জেসমিন সুলতানা পারু, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি মুফতি মাওলানা কাজী শাকের আহমদ চৌধুরী, অভিভাবক জান্নাতুল ফেরদৌস ও সিটি কলেজের শিক্ষার্থী নওশীন সানজিদা প্রমূখ।

 

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্টো-জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, গণমাধ্যম কর্মী, নগরীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারিপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ।   

 

অনুষ্ঠানের পূর্বে মাদকবিরোধী মানববন্ধন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে  ও  গ্রুপে রচনা ও  ও  গ্রুপে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী মোট ২৮ জনকে  পুরস্কারস্বরূপ ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

 

-সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

-মা ফা / জা হো ম

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

Video