আমি বলছি না সরকারের
ভুল নাই। আমাদেরও ভুল আছে। কিন্তু এ সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্বে সারা বাংলাদেশে ১ লক্ষ
২০ হাজার মসজিদ ভিত্তিক মক্তব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি মসজিদ ভিত্তিক মক্তবের এক
একটা আলেম ৫ হাজার ২শত টাকা করে ভাতা পায়। আর এখন প্রতিটি উপজেলায় ১টি করে সারা বাংলাদেশে
মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ হচ্ছে। অথচ দেশ বিভাগের পর পাকিস্তান ছিল শুধু মুসলমানদের, সে
আমলেও ৫৬০টি মসজিদ করা হয় নাই।
২২ সেপ্টেম্বর
শুক্রবার চট্টগ্রাম নগরীর নাসিরাবাদ কনভেনশন হলে নিবার্চনী এলাকা রাঙ্গুনিয়ার বিশিষ্টজনদের
নিয়ে আয়োজিত সুধী সামাবেশে এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
তথ্য ও সম্প্রচার
মন্ত্রী বলেন, আপনারা আমাকে এমপি নির্বাচিত করে সংসদে পাঠিয়েছেন, আমিও চেষ্টা করেছি
সবসময় আপনাদের পাশে থাকার। দল মত নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য আমার দুয়ার খোলা রেখেছি।
কেউ আমার কাছে এসে খালি হাতে ফিরে যায়নি। আমি কখনো দেখিনি সে কোন দল করে, সে কি আমাকে
ভোট দিয়েছিল, না ভোট দেয়নি। আমার বিরুদ্ধে মাইকিং করেছে এমন ছেলের চাকরি আমার হাত দিয়ে
হয়েছে। আমি সবসময় ভেবেছি, যখন এমপি পদে প্রার্থী ছিলাম তখন আমি দলীয় প্রার্থী। আর যখন
নির্বাচিত হয়েছি তখন আমি সবার এমপি। আমি মনে করি ক্ষমতায় গেলে ক্ষমতা দেখাতে নাই।
তথ্য ও সম্প্রচার
মন্ত্রী আরো বলেন, আমি চেষ্টা করেছি জনগনের এমপি হিসেবে কাজ করার। রাঙ্গুনিয়ায় শুধু
এলজিইডির মাধ্যমে ১ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছি। আরো অনেক ডিপার্টমেন্ট আছে,
সে হিসাব আজকে আনিনি। এমন কোন স্কুল, মাদ্রাসা নাই যেখানে ভবন পায় নাই। সরকারি কাজের
কথা বাদ দিলাম, পরিবেশ মন্ত্রী থাকা কালে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ১ কোটি টাকার টিন বিতরণ
করেছি। প্রতিটি ইউনিয়নে ১টি করে পাওয়ারটিলার, কোন কোন ইউনিয়নে ৩টি করেও দিয়েছি। আমার
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক তহবিল থেকে ২৪টি নতুন মসজিদ ভবন করে দিয়েছি। প্রতি বছর কয়েক
জনকে ওমরা হজ্ব করতে পাঠানোর চেষ্টা করি। এখন রাঙ্গুনিয়ায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৫০ টির
বেশি ঘর করে দিচ্ছি। প্রতিটা ঘরে প্রায় ৩ লাখ টাকার বেশি খরচ হচ্ছে।
ড. হাছান মাহমুদ
বলেন, সে সময় দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় জনগণের দাবি ছিল দু’টি সেতু । একটি
শিলক সরফভাটা, আর একটি হল রাজারহাট সেতু। সেখানে দু’টি জায়গায় শুধু
শিলক নদীতে ৫টি সেতু হয়েছে। কেউ কেউ বলে ছিল হাছান মাহমুদ দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার ছেলে
সে উত্তর রাঙ্গুনিয়া কাজ করবে না। সে সময় আমি কথা দিয়েছিলাম নির্বাচিত হলে উত্তর রাঙ্গুনিয়ার
কাজ আগে করবো। আমি কথা রেখেছি। কালীন্দিরাণী সড়ক আর মরিয়মনগর ডিসি সড়ক প্রসস্তকরণের
কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে, সেটিও হবে ইনশাআল্লাহ।
এসময় তিনি আরো
বলেন, বর্তমানে রাঙ্গুনিয়ায় কোন বাড়িতে বিদ্যুৎ নাই সেটি অনুসন্ধানের বিষয়। অথচ ২০০৯
সালের আগে আমার বাড়িতেই বিদ্যুৎ ছিল না। এখন ১০ বছরের ছেলেকে চেরাগ ও ল্যাম্পের কথা
জিজ্ঞেস করলে সে বলতে পারবে না। কারন ল্যাম্প ও চেরাগ সে কখনো দেখেনি। আর এখন বাড়িতে
বাড়িতে টেলিভিশন, ফ্রীজ, ব্রডব্যান্ড কানেকশন, আবার কারো কারো বাড়িতে এয়ার কন্ডিশনও
আছে। এগুলো এমনি এমনি হয়ে যায়নি। এটি সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্বের কারনে সম্ভব হয়েছে।
এসময় চট্টগ্রার প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. রফিকুল আলম, বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন (বিএমএ) এর সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সেকান্দর চৌধুরী, অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন তালুকদার, রেজাউল করিম, দীপেন শাহাসহ প্রমূখ বক্তৃতা করনে।
- মা.ফা.
মন্তব্য করুন