চট্টগ্রাম সোমবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১
চট্টগ্রাম সোমবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১

চট্টগ্রাম সংবাদ

বাংলাদেশের চিড়িয়াখানা ও সাফারী পার্কের মধ্যে সবচেয়ে বেশী বাঘ এখন চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায়। বর্তমানে ১৬ টি বাঘ আছে এ চিড়িয়াখানায়, তারমধ্যে ৫ টি বিরল প্রজাতির সাদা বাঘ।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় সদ্য জন্ম নেয়া ৪ সাদা বাঘ নিয়ে প্রেস ব্রিফিং

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২০২২ আগস্ট ০২, ০৩:০৪ অপরাহ্ন
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় সদ্য জন্ম নেয়া চারটি বিরল প্রজাতির সাদা বাঘ ও চিড়িয়াখানার বর্তমান ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান।

দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনা রাজ ও পরি নামক বাঘ দম্পতির ঘরে গত ৩০ জুন জন্ম নেয়া বিরল প্রজাতির ৪ সাদা বাঘ শাবকের নাম দেয়া হয়েছে- পদ্মা, মেঘনা, হালদা ও সাঙ্গু। একই দম্পতির ঘরে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় ২০১৮ সালে বাংলাদেশে জন্ম নেয়া প্রথম সাদা বাঘটি পর্যটকদের জন্য বিশেষ একটি আকর্ষণ। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এটি দেখতে ভিড় করছে। বাংলাদেশের চিড়িয়াখানা ও সাফারী পার্কের মধ্যে সবচেয়ে বেশী বাঘ এখন চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায়। বর্তমানে ১৬ টি বাঘ আছে এ চিড়িয়াখানায়, তারমধ্যে ৫ টি বিরল প্রজাতির সাদা বাঘ - যা একটি অনন্য নজির। চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তধ্য জানান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মমিনুর রহমান।

 

জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় সদ্য জন্ম নেয়া ৪টি বিরল প্রজাতির সাদা বাঘ শাবক, চিড়িয়াখানার বর্তমান ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে ১ আগস্ট দুপুরে চিড়িয়াখানার কনফারেন্স রুমে এ প্রেস ব্রিফিং-এর আয়োজন করা হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ১৯৮৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রী আব্দুল মান্নানের উদ্যোগে ও জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের দ্বারা ৫ একর (বর্তমানে ১০.২ একর) জমির উপর চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সময় এর মূল উদ্দেশ্য ছিল চট্টগ্রাম জেলার মানুষের জন্য একটি চিড়িয়াখানা তৈরী তথা বিনোদনের ব্যবস্থা করা। জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় ও নিবিড় তত্ত্বাবধানে জেলার একমাত্র বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, গবেষণা, শিক্ষা ও বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা। কোনো ধরণের সরকারি অনুদান ব্যতিরেকেই জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সুদক্ষ ব্যবস্থাপনায় এ চিড়িয়াখানা একটি স্বাবলম্বী এবং লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

 

তিনি জানান, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় গড়ে তোলা হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম প্রাকৃতিক এভিয়ারি (পক্ষীশালা) যেখানে ৩ শতাধিক পাখি রয়েছে। চিড়িয়াখানার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বাঘ ও জেব্রা সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া এখানে রয়েছে-ভল্লুক, সিংহ, হরিণ (চিত্রা, সাম্বার, মায়া), উল্লুক, বানর, মেছো বিড়াল, চিতা বিড়াল, অজগর, বাঘদাশ, উঠপাখি, ইমু পাখি, গয়াল, কুমির, ময়ূর, ঘোড়া, বক ও টিয়াসহ ৬৬ প্রজাতির ৬২০টি পশুপাখি।

 

মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনার কারণে ২০১৯ সালে দলগতভাবে বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক অর্জন করে। সরকারি অনুদান কিংবা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অনুদান ছাড়া শুধুমাত্র টিকেট বিক্রির টাকা দিয়ে চিড়িয়াখানার সকল অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ, পশু-পাখির খাদ্য ব্যয়, ঔষধ ও পরিচর্যা  ব্যয়, প্রাণি ক্রয় ও সংগ্রহ বাবদ ব্যয় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন নির্বাহ করা হচ্ছে। করোনাকালীন সময়ে দীর্ঘদিন চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকার পরও  জেলা প্রশাসনের সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনায় বর্তমানে চিড়িয়াখানার চলতি তহবিলে ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা রয়েছে।

 

 

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা প্রাঙ্গণে ও পাহাড়ি জায়গায় বৃক্ষরোপণ (ফলজ, ফুলজ ও উদ্ভিজ) করে চিড়িয়াখানার পরিবেশগত সৌন্দর্য ও সুরক্ষা বৃদ্ধি করা হয়েছে। চিড়িয়াখানায় কৃত্রিম পরিবেশে বাংলাদেশে প্রথমবারের মত ইনকিউবেটরে ডিম থেকে অজগরের বাচ্চা ফুটানো হয় এবং গত ২২ জুন তারিখে র্সবশষে ১১টি বাচ্চা কৃত্রিমভাবে ফুটে যা অতি শীঘ্রই বন্য পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে। বাংলাদেশে প্রথমবারের মত আবদ্ধ পরিবেশে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় চিতা বিড়ালের বাচ্চা প্রজনন করানো সম্ভব হয়। এছাড়া দেশী ও বিদেশী বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়, জার্নালে প্রাণি গবেষাণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হচ্ছে।

 

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম চিড়িয়খানায় শীঘ্রই চালু হতে যাচ্ছে অনলাইন টিকেটিং সিস্টেম, যার মাধ্যমে দর্শনার্থীরা ঘরে বসেই টিকেট সংগ্রহ করতে পারবেন। এছাড়াও সুবিধা বঞ্চিত শিক্ষার্থীসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলা ও বাংলাদেশের অন্যান্য জেলা থেকে আগত শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিতভাবে বিনামূল্যে চিড়িয়াখানা পরিদর্শনের সুব্যবস্থাসহ প্রাণি শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম (ক্লাস সেশন, সেমিনার, ওয়ার্কশপ প্রভৃতি) আয়োজন করছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। এর মাধ্যমে শিশু-কিশোর ও তরুণরা প্রাণিজগৎ সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করছে ও তাদের মধ্যে প্রাণি সচেতনতা তৈরি হচ্ছে।

 

চিড়িয়াখানার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ে ডিসি বলেন, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার জন্য জলহস্থী, সিংহ, জিরাফ, উট, ক্যাঙ্গারু, ওয়াইল্ড বিষ্ট, লামাসহ বিভিন্ন প্রজাতীর আরও পশুপাখি সংগ্রহ করে বংশবৃদ্ধি করা, যার মাধ্যমে প্রাণি সংরক্ষণ করা। বাঘের খাঁচা সম্প্রসারণ, চিত্রা হরিণের খাঁচা বৃহৎভাবে তৈরি, ভল্লুকের খাঁচা সম্প্রসারণ, কুমিরের খাঁচা আধুনীকিকরণ, বিভিন্ন প্রজাতির সাপের জন্য আলাদা স্নেক সেকশন তৈরি, ময়ূরের জন্য চিড়িয়াখানার নতুন অংশি এভিয়ারী তৈরি, শকুন সংরক্ষণে নতুনভাবে অনুকূল খাঁচা তৈরিকরণ, বিভিন্ন গবেষণা করার মাধ্যমে প্রাণি সংরক্ষণে ভূমিকা পালন ও এর সাথে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণ করানো। এছাড়াও প্রজাপতি পার্ক ও নাইট জু তৈরীকরণ এবং জঙ্গল সলিমপুরে সরকারি ৪০ একর জায়গায় চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার এক্সটেনশন হিসেবে  সাফারি পার্ক চালু করা হবে।

 

প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম এহেছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) মো. বদিউল আলম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. সুমনী আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাজমুল আহসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. মাসুদ কামাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আবু রায়হান দোলন, এনডিসি মো. তৌহিদুল আলম, কাট্টলী সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. উমর ফারুক, স্টাফ অফিসার টু ডিসি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্লাবন কুমার বিশ্বাস ও চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ।


- মনজু জে হোসাইন

 

 

 

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

Video