চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১
চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

অপরাধ

ধারণা করা হচ্ছে ট্রাকটিতে ৫শ থেকে ৬শ ঘনফুট কাঠ বোঝাই করা হয়েছে। যার আনুমানিক বাজার মুল্য প্রায় ১ কোটি টাকা।

কোটি টাকা মুল্যের অবৈধ গর্জনকাঠ আটক মিরসরাইয়ে

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : রবিবার, ২০২৩ জানুয়ারী ২৯, ০৫:৪১ অপরাহ্ন
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের করেরহাট বিটে আটককৃত অবৈধ গর্জন কাঠসহ ট্রাক।

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পাচারের সময় বিপুল পরিমান অবৈধ গর্জনের গোল কাঠসহ একটি ট্রাক আটক করা হয়েছে। স্টেশন অফিসার ও সহকর্মীদের নিয়ে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের গর্জনকাঠের এ অবৈধ চালান আটক করেন করেরহাট বিটের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) শেখ মাহাবুব হাসান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৯ জানুয়ারি রবিবার ভোররাত ২ টার সময় করেরহাট বিটের চেক পোস্টে কাঠ বোঝাই (ফেনী-ট- ১১-০৪৭৮) ট্রাকটি পার হওয়ার সময় এ কাঠের চালানটি আটক করা হয়।

 

এসময় গাড়ীতে থাকা লোকজন কাঠগুলো বৈধ বলে দাবী করে চট্টগ্রামের নারায়ণহাট বিটের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইলিছুর রহমানের ২৮ জানুয়ারি স্বাক্ষরিত একটি পরিবহন অনুমতিপত্র (টিবি) দেখান। যাতে উল্লেখ ছিলো গর্জন কাঠ মোট ৫৫ টুকরায় ৩শত ৭৩. ৮০ ঘনফুট। এসময় প্রদানকৃত কাগজের সাথে ট্রাকে থাকা গাছের কোন প্রকার মিল খুঁজে না পেয়ে এসিএফ কাঠসহ ট্রাকটি আটক করেন।

 

এদিন দুপুরে তার কার্যালয়ের সামনে কাঠগুলো ট্রাক থেকে খালাস করে বন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পরিমাপন নির্ণয় করে জব্দ তালিকা করা হয়। গাছের সাথে থাকা বন বিভাগের পরিবহন অনুমতিপত্রের (টিবি) দ্বারা জানা যায়, গাছের মালিক চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানার ইদিলপুর গ্রামের শাহ আলমের ছেলে মো. সেলিম উদ্দিন। এদিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাঠের টুকরোগুলোর পরিমান নির্ধারণ করা না হওয়ায় সঠিকভাবে বলা যাচ্ছেনা কত ঘনফুট কাঠ রয়েছে। তবে ধারণা করা যাচ্ছে ৫শ থেকে ৬শ ঘনফুট কাঠ হতে পারে। যার আনুমানিক বাজার মুল্য প্রায় ১ কোটি টাকা। এ বিষয়ে করেরহাট বিটের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) শেখ মাহাবুব হাসান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমি সহকর্মীদের নিয়ে গাছগুলো আটক করি। গাছের সাথে প্রদানকৃত টিবির কোন মিল খুঁজে পাইনি। প্রাথমিকভাবে কাঠগুলো অবৈধ প্রতীয়মান হওয়ায় সেগুলো জব্দ করেছি। এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে পিআরও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

 

এবিষয়ে জানতে চাইলে নায়াণহাট রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইলিছুর রহমান বলেন, আমাদের এখানে তারা যতটুকু কাঠ লোড দিয়েছে সে অনুযায়ী টিবি দেওয়া হয়েছে। পথিমধ্যে তারা যদি আরো কাঠ লোড দেয় তাতো আমি দেখতে পাবো না। টিবির বাইরে কোন কাঠ থাকলে সেটা অবৈধ হিসেবে জব্দমুলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন আটককারী কর্মকর্তা।

 

এদিকে অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করছেন একজন রেঞ্জ কর্মকর্তার সাক্ষরিত কাগজের সাথে গাড়ীতে থাকা কাঠের এত গরমিল হয় কিভাবে। এছাড়া সড়কে বিজিবি বা অন্য আইনশৃংখলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কিভাবে কাঠের এই অবৈধ চালানটি পাচার হচ্ছিলো তা ভাববর বিষয়।


- নাছির উদ্দিন/মিরসরাই

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

Video