চট্টগ্রাম শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১
চট্টগ্রাম শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

জনদুর্ভোগ

সড়কের বিভিন্নস্থানে বড় বড় গর্ত হওয়াতে একটু বৃষ্টি হলেই তাতে পানি জমে থাকে। সড়কের পাশ ঘেঁষে রয়েছে কয়েকটি সরকারী-বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আর এসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিয়ত হাজারো শিক্ষার্থী যাতায়াত করছে এই কর্দমাক্ত সড়ক হয়ে।

মিরসরাইয়ে খানাখন্দে ভরপুর জোরারগঞ্জ-আবুরহাট সড়ক

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : রবিবার, ২০২৩ Jun ১৮, ০৫:৫১ অপরাহ্ন
জোরারগঞ্জ-আবুরহাট সড়কে বড় বড় গর্তে পানি ভরাট। ছবিটি ওই সড়কের পাশে থাকা মৌলভী নজির আহমদ দাখিল মাদরাসার সামনে থেকে তোলা।

সড়কের শরীর জুড়ে বড় বড় গর্ত। বৃষ্টি শুরু হলেই তাতে পানি জমে পুকুরের আকার ধারণ করে। সড়কের পাশ ধরেও পায়ে হেঁটে যাওয়ার কোন অবস্থা নেই। জুতো পরে পায়ে হেঁটে যাওয়ারতো প্রশ্নই উঠেনা! কারন গর্ত এমন আকার ধারণ করেছে, সেখানে পানি জমে থাকায় পানিতে পা ডুবিয়ে চলা ছাড়া কোন ব্যবস্থাই নেই। তাছাড়া চলন্ত ছোট-বড় গাড়ীগুলোর চাকার পানি গিয়ে ছিটকে পড়ছে পথচারিদের উপর। ছোট গাড়ীগুলো চলার সময় গাড়ীর নিচের অংশ সড়কের গর্তের পানিতে তলিয়ে যায়। এ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা! সব মিলিয়ে জনভোগান্তির যেন অন্ত নেই।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জোরারগঞ্জ-আবুরহাট ৫ কিলোমিটার সড়কের অধিকাংশস্থানেই এই দূরবস্থা। সড়কের বিভিন্নস্থানে বড় বড় গর্ত হওয়াতে একটু বৃষ্টি হলেই তাতে পানি জমে থাকে। সড়কের পাশ ঘেঁষে রয়েছে কয়েকটি সরকারী-বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আর এসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিয়ত হাজারো শিক্ষার্থী এই কর্দমাক্ত সড়ক হয়ে যাতায়াত করছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এতে তারা প্রতিনিয়ত নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। কারণ কর্দমাক্ত সড়কে তারা নিরাপদে চলাচল করতে পারছে না তাছাড়া পরিধেয় পোষাকগুলোতে ময়লা লেগে নষ্ট হচ্ছে।

 

সড়কের বেহাল দশার বিষয়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, সড়কটির কাজের দায়িত্ব ছিল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি)। নতুন করে এ সড়কের দুই পাশ প্রশস্তকরণসহ ৫ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হয় গত বছর। এ কাজের চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয় ২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। ঠিকাদারীর কাজ পান ফেনীর নুরুল হক মিজান নামে এক ঠিকাদার। চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি সড়কটির কাজ শেষ করার সময়কাল থাকলেও তা অদ্যবদি সম্পন্ন করা হয়নি। শুধু সড়কের বিভিন্ন স্থানের কার্পেটিং এর ভাঙ্গা অংশ উঠিয়ে সেখানে ইটের টুকরো দিয়ে ভরাট করা হয়েছিলো। পরে সেখানে কার্পেটিং করার কথা ছিলো। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে হঠাৎ কাজ বন্ধ করে দেন ঠিকাদার। আর এভাবে পড়ে রয়েছে অন্তত ১ বছর। পরে জানা যায়, বিটুমিন না পাওয়ায় সড়কের সংস্কার কাজ করা সম্ভব হয়নি।

 

এদিকে শুষ্ক মৌসুমে ইটের টুকরোর ধুলোবালিতে এই জনপদের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলো। কারো বাড়ীঘরের দরজা খোলার অবস্থা ছিলোন না। পথচারীরা পায়ে হেঁটে চলাচলের সময় নাক-মুখ ঢেকে যেতে হতো। ধুলোবালিতে পোষাক নোংরাসহ মানুষ নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হলেও সড়ক কর্তৃপক্ষের সেদিকে কোন দৃষ্টি ছিলো না। সম্প্রতি বর্ষা মৌসুম শুরু হলে এই সড়কের ভোগান্তি আরো বহুগুণ বেড়ে যায়।

 

মৌলভী নজির আহমদ আদর্শ দাখিল মাদরাসার শিক্ষার্থী নাজমুল বলেন, এ সড়কে শুষ্ক মৌসুমে ধুলোবালিতে কষ্ট করেছি। এখন বর্ষায় কাদা পানিতে কষ্ট করছি। এ সড়কের দ্রুত সংস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানচ্ছি। এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা চিকিৎসক নুর নবী ও ব্যবসায়ী অসীম রায় বলেন, এ সড়কের কার্পেটিং না করে এভাবেই ঠিকাদার ফেলে রাখায় ধুলোবালিতে অতিষ্ট হয়ে উঠেছিলাম এখন কাদা পানিতে কষ্ট করছি। বাজার থেকে সদাইপত্র বাসায় আনতে চাইলে রিক্সাওয়ালাও আসতে চায়না। পায়ে হেঁটে চলাচলেরও কোন অবস্থা নেই। 

 

এ সড়ক দিয়ে নিয়মিত চলাচলকারী অটোরিক্সা চালক নুর উদ্দিন বলেন, কংক্রিটে পড়ে কয়েকবার রিক্সার চাকা পাংচার হওয়াসহ ধুলো এবং কাদাপানিযুক্ত গর্তের যন্ত্রণায় এই সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। ওই সড়কে ভাড়া নিয়ে যেতে পারিনা, ফলে আমাদের আয়ও কমেছে।

 

এ ব্যাপারে জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম মাষ্টার বলেন, জনদুর্ভোগের কারণে সড়কটির কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বার বার তাগিদ দিয়েও আমরা কোনো ফল পাইনি।

 

এবিষয়ে জানতে মিরসরাই উপজেলা প্রকৌশলী রনী সাহার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেন নি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


- নাছির উদ্দিন/মিরসরাই

 

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

Video