বিদ্যুৎ সাশ্রয় ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বড় বড় শহরের বাণিজ্যিক ভবনগুলোতে সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে লবিসহ ভেতরে ও বাইরে সাজানোর বাড়তি বাতিগুলো নিভিয়ে রাখতে বলছে বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলো।
কিছু ক্ষেত্রে সার্বক্ষণিক চালু রাখা লিফটের সংখ্যাও কমিয়ে ফেলতে
বলা হচ্ছে।
ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড, ডেসকো এবং ঢাকা পাওয়ার
ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, ডিপিডিসির কর্মকর্তারা শহরের দোকানপাট ছাড়াও
ঢাকার বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে নানা ভবনে সন্ধ্যার পর গিয়ে এবিষয়ে ভবন কর্তৃপক্ষকে
নির্দেশ দিচ্ছেন।
দেশের অন্যান্য বড় শহরগুলোতেও বাণিজ্যিক ভবনের কর্তৃপক্ষকে একই
নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
গত মাসের সাত তারিখ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সারা দেশে আলোকসজ্জা না করার
নির্দেশনা জারি করে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে
পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত সারা দেশে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, কমিউনিটি
সেন্টার, শপিং মল, দোকানপাট, অফিস ও বাসাবাড়িতে আলোকসজ্জা না করার নির্দেশ দেয়া
হয়।
১৯ জুলাই মাসের থেকে সারা দেশে এলাকাভিত্তিক এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং
বা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ।
যদিও অভিযোগ রয়েছে, বেশির ভাগ এলাকাতেই লোডশেডিং তার চেয়ে বেশি
হচ্ছে। কোথাও কোথাও চার ঘণ্টার কথাও শোনা যাচ্ছে।
তবে এখন বাণিজ্যিক ভবনে লবিসহ ভেতরে বাইরে সাজানোর বাতিও কমিয়ে
ফেলতে বলা হচ্ছে।
বড় ধরনের বিদ্যুৎ সংকট কাটিয়ে উঠতে দেশের সকল শিল্প কারখানায়
এলাকা ভিত্তিক ভিন্ন ভিন্ন ছুটির দিন নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। আজই তা নিয়ে
একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আলোকসজ্জা বিষয়ক নির্দেশনা জারি করার আগে
চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট কাটিয়ে উঠতে সম্ভাব্য কিছু পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা
হয়েছে।
দরকার হলে অফিস আদালতে করোনা মহামারিকালে গড়ে ওঠা হোম অফিস আবার
চালু করা, শীতাতপযন্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা, সরকারি অফিস-আদালতে কাজের সময়
কমিয়ে আনা প্রভৃতি বিষয় নিয়ে তখন কথাবার্তা হয়েছে।
দেশ জুড়ে চলমান লোডশেডিং শীতকালের আগে শেষ হবে না বলেও সরকারের
তরফ থেকে ধারণা দেয়া হয়েছে।
ডেসকো’র পক্ষ থেকে সংবাদ মাধ্যমকে জানানো হয়, সন্ধ্যে ৭টা থেকে তাদের
নজরদারি দল বের হয়। তারা দেখে যে কোথাও বাড়তি আলোকসজ্জা আছে কিনা। কোনো ভবনে
আলোকসজ্জা করা হলে বা অতিরিক্ত আলো জালানো থাকলে ভিজিলেন্স টিম তা বন্ধ করে দেয়।
ডেসকো জানায়, বাণিজ্যিক ভবনগুলোকে অনুরোধ করা হচ্ছে, কিন্তু বাধ্য
করা হচ্ছে না। সরকারের তরফ থেকে আলোকসজ্জা কমানো ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রয়োজনীয়
ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়াতেই এটা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রাম বিতরণ অঞ্চলের পক্ষ থেকে সংবাদ
মাধ্যমকে জানানো হয়, বন্দরনগরীতেও বাড়তি বাতি না জ্বালানোর পরামর্শ দেয়া হচ্ছে, যদিও
লোড শেডিং-এর কারণে জেনারেটর দিয়ে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে হওয়ায় এবং জেনারেটর
চালানো অতিরিক্ত ব্যয়সাপেক্ষ হয়ে যাওয়ায় ভবনগুলোর বেশির ভাগ নিজেরাই এটা করছে।
মন্তব্য করুন