চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১
চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

স্বাস্থ্য

২৫ আগস্ট থেকে সারা দেশে

রাজধানীতে শিশুদের করোনার টিকাদান শুরু


প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২০২২ আগস্ট ১১, ০৬:০২ অপরাহ্ন
টিকা নিচ্ছে শিশুশিক্ষার্থী নিধি নন্দিনী কুণ্ডু। এসময় উপস্থিত আছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খুরশীদ আলম প্রমুখ।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক আজ ১১ আগস্ট দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৫ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের করোনার টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন ।

 

প্রথম দিন রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আবুল বাশার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ১৬ শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হয়। এদিন প্রথম টিকা নেয় বিদ্যালয়টির তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী নিধি নন্দিনী কুণ্ডু।

 

টিকা নেওয়া অন্য ১৫ শিশু হলো: একই বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী হীরা আক্তার, দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সৌম্যদীপ দাস, তৃতীয় শ্রেণির সাইমুন সিদ্দিক, মো. আরাফাত শেখ, আকিব আহমেদ সায়ন, শামীমা সিদ্দিকা তাসিন, রুপা আক্তার ও হুমায়রা আফরিন তামান্না, চতুর্থ শ্রেণির মো. আবু সায়েম ফাহিম, মাহমুদ হোসেন, আল-আমিন, তাসলিমা আক্তার, সানজিদা আক্তার ও মোছা. নুসরাত জাহান আরিন, এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী বিকাশ কুমার সরকার।

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, আমরা যেখানেই গিয়েছি সবাই জানতে চেয়েছেন যে, শিশুদের টিকা দেওয়া হবে কবে? আমরা টিকা পেয়েছি, কিন্তু আমাদের শিশুরা টিকা পায়নি। অভিভাবকরা এ নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। আজকে আমরা শিশুদের টিকা কার্যক্রম উদ্বোধন করতে যাচ্ছি। আজকে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করতে যাচ্ছি এবং আগামী ২৫ আগস্ট থেকে সারা দেশে পুরোদমে টিকা কার্যক্রম চলবে। প্রথমে সিটি করপোরেশন এলাকায় শুরু হবে, তারপর পর্যায়ক্রমে সারা দেশে।

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শিশুদের ফাইজারের তৈরি বিশেষ টিকা দেওয়া হচ্ছে। এই টিকা যুক্তরাষ্ট্রেও দেওয়া হচ্ছে। আমাদের ওষুধ প্রশাসনও এই টিকার অনুমোদন দিয়েছে। এটি শিশুদের জন্য একবারে নিরাপদ।

 

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, টিকার ক্ষেত্রে আমাদের বিরাট সাফল্য রয়েছে। ১২-১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম ডোজ ৯৭ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজ ৭৩ শতাংশ শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়েছে।

 

দীপু মনি বলেন, এই টিকা প্রদানের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার জন্য হু, ইউএসএইড, ইউনিসেফ, যুক্তরাষ্ট্র সরকার, কোভেস্কসহ সবার প্রতি বাংলাদেশের মানুষের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই।

 

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খুরশীদ আলম বলেন, ৫-১১ বছরের শিশুদের এই টিকা কার্যক্রম সারা দেশের ১২ সিটি করপোরেশন এলাকায় শুরু হবে। টিকার প্রথম ডোজ চলবে ২৫ আগস্ট থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এরপর দ্বিতীয় ডোজ কার্যক্রম শুরু হবে। প্রথম ডোজ দেওয়ার দুই মাস পর শিশুরা দ্বিতীয় ডোজের টিকা পাবে। শিশুদের দেওয়ার জন্য ফাইজারের তৈরি টিকা পর্যাপ্ত পরিমাণে আমাদের হাতে আছে। টিকা কর্মীরাও সারা দেশে প্রস্তুত আছেন।

 

তিনি আরো বলেন, শুরুতে শিশুদের টিকা কার্যক্রম সিটি করপোরেশন এলাকায় শুরু করার পরিকল্পনা করেছি। এরপর পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সব জেলা-উপজেলা পর্যায়েও এ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে।

 

এদিকে টিকা নিতে আসা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ছিলেন উৎফুল্ল। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান আরিন জানায়, আব্বু আম্মু সবাই টিকা নিয়েছে। শুধু আমি বাদ ছিলাম। আজকে আমিও নিচ্ছি, কোনও ভয় লাগছে না।

 

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন: স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ও লাইন ডিরেক্টর ডা. শামছুল হক, বাংলাদেশে ইউনিসেফ প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস, স্বাস্থ্য-শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. সাইফুল হাসান বাদল, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার প্রমুখ।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

Video