পুষ্টিবান জাতি গঠনে নবজাতকের জন্য মায়ের দুধের কোনো বিকল্প নেই। জন্মের সাথে সাথে মায়ের শাল দুধই শিশুর প্রথম টিকা ও খাবার। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ থেকে শিশুকে দ্রুত রক্ষা করে। শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশে মাতৃদুগ্ধ পানের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে আলোচনা সভায়
এসব কথা বলেন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি।
৭ আগস্ট বিশ্ব মাতৃদৃগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ের উদ্যোগে সম্মেলন কক্ষে ‘মাতৃদৃগ্ধ পান এগিয়ে নিতে, শিক্ষা ও সহযোগিতা হবে বাড়াতে’ শীর্ষক আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি।
উপযুক্ত শিক্ষা ও সহযোগিতার মাধ্যমে শিশুর স্তন্যপান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন গবেষনায় দেখা গেছে, জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে মায়ের দুধ পান করালে শিশুমৃত্যুর হার ৩১ শতাংশ কমে। এ ছাড়া ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধু মায়ের দুধ পান করালে শিশুর মৃত্যুঝুঁকি হ্রাস পায় আরও ১৩ শতাংশ। নবজাতকের জন্য শাল দুধই হলো প্রথম টিকা। শাল দুধে রয়েছে শিশুর জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টি ও ওষুধি গুন। অন্য কোন খাবার ছাড়াই ৬ মাস পর্যন্ত শিশুকে বুকের দুধ পান করালে মা ও শিশু উভয়েই সুস্থ থাকবেন। এজন্য প্রসূতি মা’কে খেতে হবে প্রচুর পরিমানে তরল ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার। বর্তমান বৈশ্বিক কোভিড-১৯ মহামারীতে করোনা পজিটিভ মা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে তার শিশুকে বুকের দুধ পান করাতে পারে। সরাসরি ও বিকল্প পদ্ধতিতেও শিশুকে দুধ পান করানো সম্ভব। বুকের দুধের মাধ্যমে করোনার সংক্রমণ হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। এ ব্যাপারে সকল মাকেই সচেতন হতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, মায়ের দুধ খাওয়ানোর সুরক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করতে হবে। মায়ের দুধ খাওয়ানোকে জনস্বাস্থ্য সেবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং সর্বোচ্চ সফলতার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করতে হবে। একই সাথে গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের ভাতা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। মাতৃদুগ্ধদানের সুরক্ষা, প্রচার ও সমর্থনে সমাজের বিভিন্ন স্তরের সমন্বয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ, স্বাস্থ্যসেবা কর্মীর কাউন্সেলিং ও মাতৃদুগ্ধ বিকল্প, শিশুখাদ্য আইন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতিটি পর্যায় মাতৃদুগ্ধ বিকল্প শিশুখাদ্য আইনের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. সাখাওয়াত উল্লাহ’র সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু) ডা. রেজিনা ইসলাম, জুনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনী) ডা. শারমিন নাহার বাশার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভাগীয় সমন্বয়কারী ডা. ইমং প্রু চৌধুরী ও ফৌজদারহাট বক্ষব্যাধি হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. শিহাব উদ্দিন।
জুনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ হোসাইনের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. সুমন বড়ুয়া। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্যাথ ফাইন্ডারের বিভাগীয় সমন্বয়কারী শেখ নজরুল ইসলাম ও ইউনিসেফ’র বিভাগীয় নিউট্রিশন অফিসার মো.শাহাবুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন এনজিও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভার পূর্বে একটি বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়। র্যালিটি স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
- মাইশা ফাইরোজ
মন্তব্য করুন