চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১
চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

স্বাস্থ্য

২০২২ সালে চট্টগ্রাম জেলায় সর্বমোট ১৫ হাজার ৯৯১ জন যক্ষারোগী সনাক্ত হয়। তন্মধ্যে ক্যাটাগরি-১ অনুযায়ী যক্ষারোগীর সংখ্যা ১৪ হাজার ৯৩৩ জন ও পূনঃ আক্রান্ত যক্ষারোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৫৮ জন। এখানে ৬৬৬ জন শিশু যক্ষারোগীও রয়েছে।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে বিশ্ব যক্ষা দিবস উদযাপন

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : শনিবার, ২০২৩ মার্চ ২৫, ০১:২৩ অপরাহ্ন
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে বেলুন উড়িয়ে বিশ্ব যক্ষা দিবসের উদ্বোধন করছেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি।

টিউবারকুলোসিস (টিবি) বা যক্ষা শুধু ফুসফুসের ব্যাধি নয়। এটি বায়ুবাহিত ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক ব্যাধি যেটা মাইক্রোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস জীবাণুর সংক্রমণে হয়ে থাকে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের আন্তরিকতার কারণে দেশের হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে যক্ষা রোগীরা বিনামূল্যে চিকিৎসা-সেবা পাচ্ছে। সরকারী হাসপাতালগুলোতে যক্ষা রোগের পর্যাপ্ত পরিমাণ চিকিৎসা সামগ্রীও রয়েছে। বিশ্ব যক্ষা দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি।   

 

২৩ মার্চ বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর আন্দরকিল্লাস্থ জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে বিশ্ব যক্ষা দিবসে উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে হ্যাঁ! আমরা যক্ষা নির্মূল করতে পারি!। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় যক্ষা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচীর সহযোগিতায় চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন অফিস ও সহযোগী সংস্থাসমূহ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

 

সভার পূর্বে বেলুন উড়িয়ে বিশ্ব যক্ষা দিবস-২০২৩ এর শুভ উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি ও সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরীসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। এরপর দিবসটি উপলক্ষে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি আন্দরকিল্লা হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে পূনঃরায় সিভিল সার্জন অফিসের সামনে এসে শেষ হয়। 


 

ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, মস্তিস্ক থেকে শুরু করে ত্বক, অন্ত্র, লিভার, কিডনি ও হাড়সহ শরীরের যে কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে যক্ষার সংক্রমণ হতে পারে। যক্ষা সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে। ফুসফুসে যক্ষার জীবাণু সংক্রমিত হলে টানা কয়েক সপ্তাহ কাশি ও কফের সাথে রক্ত যায়। আমাদের এমন কোন অঙ্গ নেই যেখানে যক্ষা হয়না। এ ব্যাপারে জনসচেতনতার বিকল্প নেই। পরিবারে যক্ষা রোগী থাকলে শিশুসহ অন্য সবাইকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগের ফলে যক্ষা নির্মূল সম্ভব।

 

সভাপতির বক্তব্যে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার একটি অংশ জন্মগতভাবে যক্ষা রোগের জীবাণু বহন করে। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত তাদের এ রোগের ঝুঁকি বেশি। পরিবেশ দূষণ, দরিদ্রতা, মাদকাসক্তি ও অপুষ্টি যক্ষার হার বাড়ার অন্যতম কারণ। এ রোগের লক্ষণ দেখা দিলে ভয় না করে সঠিক সময়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। তাহলে নির্দিষ্ট সময়ে এ রোগ পুরোপুরি সেরে যাবে।

 

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০২২ সালে চট্টগ্রাম জেলায় সর্বমোট ১৫ হাজার ৯৯১ জন যক্ষারোগী সনাক্ত হয়। তন্মধ্যে ক্যাটাগরি-১ অনুযায়ী যক্ষারোগীর সংখ্যা ১৪ হাজার ৯৩৩ জন ও পূনঃ আক্রান্ত যক্ষারোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৫৮ জন। এখানে ৬৬৬ জন শিশু যক্ষারোগীও রয়েছে। সনাক্তকৃত মোট যক্ষা রোগীর মধ্যে ফুসফুস আক্রান্ত যক্ষারোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৫৪৫ জন ও ফুসফুস বর্হিভূত যক্ষারোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ৪৪৬ জন। চট্টগ্রাম জেলায় চিকিৎসাপ্রাপ্ত যক্ষারোগীদের মধ্যে সাফল্যের হার ৯৭ শতাংশ এবং  সনাক্তকৃত যক্ষারোগীদের মধ্যে ৬ হাজার ৩৯৬ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়েছে। 

 

জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক সুজন বড়ুয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. সুমন বড়ুয়া, চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. গোলাম মোস্তফা জামাল, বিভাগীয় টিবি এক্সপার্ট (এনটিপি) ডা. বিপ্লব পালিত, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এমওডিসি ডা. মো. নুরুল হায়দার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এসআইএমও ডা. এফএম জাহিদ ও নাটাবর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এমওসিএস ডা. মো. নওশাদ খান। মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ডিএসএমও ডা. আবদুল্লাহ-হির-রাফি-অঝোর। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রোগ্রাম অর্গানাইজার গাজী মো. নূর হোসেন, ব্র্যাকর ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার মো. জামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, মমতার প্রোগ্রাম ম্যানেজার এসএম আরিফ, এসএমসির ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটর মো. ফাইজুর রহমান, নিস্কৃতির প্রোগ্রাম অফিসার মাহমুদুল ইসলাম অপু প্রমূখ।

 

অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন এনজিও সংস্থা ব্র্যাক, মমতা, ইমেজ, নিস্কৃতি, আইসিডিডিআরবি, আশার আলো, নাটাব, আইআরডি, বাডার্স, আশার আলো সোসাইটি, এসএমসি ও লেপ্রসি মিশন।


- মা.সো.

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

Video