চট্টগ্রাম ২৫০
শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল নার্সিং কর্মকর্তাদের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নার্সেস
দিবস-২০২৩ উদযাপন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে-‘আমাদের নার্স
: আমাদের ভবিষ্যৎ’।
১২ মে শুক্রবার
এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিল বেলুন ও শান্তির পায়রা উড়িয়ে দিবসটির উদ্বোধন,
বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা এবং সবশেষে কেক কেটে আধুনিক নার্সিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা ফ্লোরেন্স
নাইটিংগেল’র ২০৩ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন।
চট্টগ্রাম জেনারেল
হাসপাতালের সেবা তত্ত্বাবধায়ক কৃষ্ণা দাশের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র স্টাফ নার্স দীপ্তি
ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি
ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. মহিউদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (উপ-পরিচালক) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি,
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের
আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. গোলাম মোস্তফা জামাল ও মেডিকেল অফিসার ডা. রুমি দাশ। স্বাগত
বক্তব্য রাখেন নার্সিং সুপারভাইজার জ্যোৎস্না রানী বড়ুয়া, সিনিয়র স্টাফ নার্স চায়না
রানী শীল, সিনিয়র স্টাফ নার্স তপন চন্দ্র দে, সিনিয়র স্টাফ নার্স রাশেদুল আলম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বেলুন-শান্তির পায়রা উড়িয়ে আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস-২০২৩ ও বর্ণাঢ্য র্যালির শুভ উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. মহিউদ্দিন। র্যালিটি হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পূণঃরায় হাসপাতালে এসে শেষ হয়। র্যালিতে অতিথিবৃন্দসহ সকল নার্সিং সুপারভাইজার ও নার্সিং কর্মকর্তা অংশ নেন।
আলোচনা সভায় প্রধান
অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. মহিউদ্দিন বলেন, নার্সদের কঠিন
পরিশ্রম ও তাদের সেবা ছাড়া কোনো রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠা কঠিন। আজ সেই মানুষদের শ্রদ্ধা
জানানোর দিন। মানুষকে সেবা দেয়ার জন্য বর্তমান সরকার আমাদেরকে অনেক সুযোগ-সুবিধা দিয়েছেন।
স্বাস্থ্যসেবা জণগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার
লক্ষ্যে বিপুল সংখ্যক নার্স নিয়োগ, নতুন পদ সৃজন, বিশেষায়িত নার্স গড়ে তোলা, নার্সিং
খাতের নানাবিধ প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করা, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে
নার্সিং সেবার মান বৃদ্ধি করাসহ নানামুখী কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে। আধুনিক নার্সিংয়ের
প্রতিষ্ঠাতা, সমাজ সংস্কারক ও পরিসংখ্যানবিদ মহিয়সী নারী ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল’র জীবনী থেকে
শিক্ষা নিয়ে সমাজের দরিদ্র-অসহায় মানুষের সেবায় নার্সদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়ে ডা.
মো. মহিউদ্দিন বলেন, জরুরী বিভাগে রোগী আসার পাঁচ মিনিটের মধ্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা
শুরু করতে হবে। একইসাথে হাসপাতালের বেড-বিছানা, বাথরুম ও হাসপাতাল পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন
রাখার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিশেষ অতিথির
বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (উপ-পরিচালক) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি
বলেন, একজন নার্স কোন রোগীর সাথে ভাল আচরণ করলে তার রোগ অর্ধেক ভাল হয়ে যায়। এ জন্য
মানব সেবায় নিয়োজিত সকল নার্সদেরকে রোগীদের সাথে ভাল আচরণ করতে হবে। সেবার মানসিকতা
ও আন্তরিকতা নিয়ে নার্সদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। সবসময় রোগীর পাশে থাকতে হবে। রোগীর
সমস্যাকে নিজের সমস্যা মনে করে নিজের অবস্থান থেকে আন্তরিকভাবে সেবা দিতে হবে।
উল্লেখ্য, ১৮২০ সালের ১২ মে ইতালির এর আভিজাত পরিবারে ফ্লোরেন্স নাইটিংগেলের জন্ম। ১৯৭৪ সাল থেকে তাঁর জন্মদিনটি ‘ইন্টারন্যাশনাল নার্সেস ডে’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। ডার্বিশায়ার থেকে ১৭ বছর বয়সে লন্ডনে আসেন ফ্লোরেন্স। সেই সময় লন্ডনের হাসপাতালের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। এ কারণে কোনও সেবিকা সে সময় কাজ করতেন না। সে সময় নার্সিং পেশাকে সামাজিকভাবে মর্যাদা দেওয়া হত না। তা সত্ত্বেও নাইটিংগেল ১৮৫১ সালে নার্সিং প্রশিক্ষণ নিতে জার্মানিতে যান। তারপর তিনি নজে ১৮৬০ সালে নার্সিংকে সম্পূর্ণ পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য স্থাপন করেন নাইটিংগেল ট্রেনিং স্কুল। তারপর ১৮৬৭ সালে নিউইয়র্কে চালু হয় উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ।
- মা.ফা.
মন্তব্য করুন