বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে গত দুদিনে কক্সবাজার সৈকতের বিস্তীর্ণ এলাকা সমুদ্রে বিলীন হয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার প্রথম দিনেই বিলীন হয়ে যায় শহরের লাবণী, শৈবাল ও ডায়াবেটিক পয়েন্টসহ সৈকতের বিস্তীর্ণ এলাকার বালিয়াড়ি ও ঝাউবন।
গতকাল শুক্রবার দ্বিতীয় দিন সকালের জোয়ারে বিলীন হয়ে যায় আরো কয়েকটি
এলাকা। ভাঙনের কারণে ঝুঁকির মুখে এসে দাঁড়িয়েছে সরকারি-বেসরকারি নানা স্থাপনা। পানি
উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার সকালে সৈকতের ভাঙন পরিদর্শন করেছেন।
গত দুদিন ধরে কক্সবাজার উপকূলে স্বাভাবিক জোয়ারের তুলনায় ১ থেকে ২ ফুট
বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হয়। জোয়ারের সাথে উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়তে থাকে কক্সবাজার উপকূলে।
ঢেউয়ের তোড়ে হারিয়ে যায় শহরের কলাতলী শুকনাছড়ি সাগরতীরের কমপক্ষে দেড়ডজন বসতবাড়ি।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশ জানায়, কক্সবাজার সৈকতে ভাঙনের এত তীব্রতা
গত কয়েক বছরেও দেখা যায়নি। ভাঙনের কারণে কয়েকটি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় পর্য়টকদের
চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে ট্যুরিস্ট পুলিশ ভবন, সৈকতের উন্মুক্ত
মঞ্চ, ছাতা মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়ে যাবে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল রয়েছে।
কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় মাঝারি
বৃষ্টিপাত ও দমকা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে চলছে। জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে দু-চার ফুট বেড়েছে।
গভীর সাগরে অবস্থানরত জেলেদের সব ট্রলারকে পরবর্তী সংকেত না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে
থাকতে বলা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার শুক্রবার সকালে সৈকতের
ভাঙন এলাকা পরিদর্শনকালে জানান, সৈকতের ভাঙন রোধে লাবণী পয়েন্ট থেকে এয়ারপোর্ট হয়ে
নুনিয়াছড়া নাজিরারটেক পর্যন্ত কক্সবাজার শহর রক্ষা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন
হয়েছে, এবং প্রকল্পটি এখন অনুমোদনের জন্য একনেকে রয়েছে।
পাউবো জানায়, সৈকতের ভাঙন রোধে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড
দুই কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫-১৬ মিটার এলাকায় জিও টিউব দিয়ে অস্থায়ী মেরামত কাজ করে। এরপর
২০২১-এ সৈকতের ভাঙন রোধে সীমিত আকারে উদ্যোগ নেয়া হয়।
মূলত গত কয়েক বছর থেকেই সৈকতে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সৈকতের
ডায়াবেটিক পয়েন্ট থেকে কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত বর্ষা মৌসুমে ভাঙছে। ভাঙন রোধের স্থায়ী
সমাধান নিয়ে পর্যালোচনা চলছে বলে জানা যায়।
মন্তব্য করুন