চট্টগ্রাম সোমবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১
চট্টগ্রাম সোমবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১

জাতীয়

মহাসঙ্কটে বাংলাদেশের বিদেশগামীরাডলারের উর্ধ্বগতিতে বিপদে বাংলাদেশের বহু মানুষ

বাংলাদেশে ডলারের দাম খোলাবাজারে সর্বোচ্চ ১১০ টাকায়


প্রকাশিত : শুক্রবার, ২০২২ জুলাই ২৯, ০৬:৪৫ অপরাহ্ন

বাংলাদেশে ডলারের দাম খোলাবাজারে সর্বোচ্চ ১১০ টাকায় পৌঁছে যাওয়ায়, যাঁদের জরুরি ভিত্তিতে ডলারের দরকার তাঁরা খুব সঙ্কটে পড়ে গেছেন।

 

চিকিৎসার জন্য যাঁদের বিদেশে যেতে হচ্ছে, তাঁদের সমস্যাই সবচেয়ে বেশি। সেইসঙ্গে শিক্ষার জন্য বিদেশ যাত্রাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেই নানা সমস্যার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

 

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, খোলাবাজারে মানি চেঞ্জারগুলোতে ডলার নিয়ে কোনো কারসাজি হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে তারা ১০টি টিম মাঠে নামিয়েছে ।

 

ডলারের বাজার উর্ধ্বমুখী হওয়ায় বিদেশে চিকিৎসার জন্য মানুষের যে পরিমাণ ডলারের প্রয়োজন হচ্ছে, ১১০ টাকা বা তারও বেশি দাম দিয়ে ব্যাংক থেকে, এমনকি খোলাবাজার থেকেও, পর্যাপ্ত ক্যাশ ডলার সংগ্রহ করতে পারা যাচ্ছে না। এর ফলে অনেকে ক্রেডিট কার্ডে ডলার এনডোর্স করে তার ওপর ভর করেই চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

 

বিদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য যাচ্ছেন এমন অনেকেও সমস্যায় পড়ছেন। ডলারের চড়া দামের কারণে তাদের অনেককে এখন বিমান ভাড়া থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর সেখানকার খরচসহ সব কিছুর জন্য বাড়তি অর্থ যোগাড় করতে হচ্ছে। ডলার সঙ্কটের কারণে বিমানের টিকেটের দামও বেড়ে গেছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার যে বিমান টিকেট আগে ৭০ হাজার টাকায় আগে পাওয়া যেত, তা এখন কিনতে হচ্ছে এক লাখ ৭২ হাজার টাকায়।

 

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সর্বশেষ নির্ধারিত ডলারের বিনিময় হার হচ্ছে ৯৮ টাকা ৮৩ পয়সা। কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ১০০ টাকার ওপরে বিভিন্ন দামে বিক্রি করছে।

 

আর মানি চেঞ্জারগুলো বিক্রি করছে ১০৬ টাকা এবং তার চেয়েও বেশি দামে। গত মঙ্গলবার খোলাবাজারে প্রতি ডলারের দাম উঠেছিল ১১২ টাকা।

 

যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক মঙ্গলবার ৫০ লাখ ডলার বাজারে ছেড়েছে। এনিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত ছয় মাসে সাড়ে সাতশো কোটি ডলারের বেশি ব্যাংকগুলোর কাছে বিক্রি করেছে।

 

এছাড়া আমদানি কমাতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়ার পরও ডলারের বাজার যে অস্থির থাকছে, সেজন্য খোলাবাজারের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, খোলাবাজারে বিশেষ করে মানি চেঞ্জাররা অন্য কোন কারসাজি করলো কিনা-- সেটা সরেজমিনে খতিয়ে দেখবে আমাদের ১০টি টিম।

 

মানি চেঞ্জারদের সমিতি ডলারের বাজারে কোন কারসাজির সন্দেহ বা অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

 

এই সমিতির সভাপতি এ. কে. ইসমাইল হক বলেছেন, বিদেশ ফেরত যারা ডলার নিয়ে আসেন, তাদের কাছ থেকে মানি চেঞ্জাররা ডলার কিনে থাকে বা সংগ্রহ করে থাকে।

 

এই বিদেশ ফেরত লোকজন আরও চড়া দামের আশায় ডলার ছাড়ছে না বলে জনাব হক উল্লেখ করেন।

 

"আমাদের সমস্যা হচ্ছে, যাদের কাছ থেকে আমরা ডলার সংগ্রহ করি, তারা ভাবছে দাম আরও বাড়বে। সেজন্য তারা বিক্রি করছে না এবং আমরাও কিনতে পারছি না। ফলে আমরা ডলারের সঙ্কটে পড়েছি।"

 

তবে কর্মকর্তারা বলেছেন, ডলারের বাজারের কারসাজির অভিযোগ প্রমাণ হলে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

Video