চট্টগ্রাম শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১
চট্টগ্রাম শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১

জাতীয়

শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা আজ

'কর ত্রাণ, মহাপ্রাণ, আন অমৃতবাণী'

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : রবিবার, ২০২২ মে ১৫, ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন
বুদ্ধের জন্ম: তৃতীয় শতাব্দীর ভাস্কর্য। এটি বর্তমানে টোকিয়ো জাদুঘরে সংরক্ষিত। আলোকচিত্র: জঁ-পিয়ের দালবেরা

হিংসায় উন্মত্ত পৃথ্বী, নিত্য নিঠুর দ্বন্দ্ব;

ঘোর কুটিল পন্থ তার, লোভজটিল বন্ধ ॥

নূতন তব জন্ম লাগি কাতর যত প্রাণী-

কর’ ত্রাণ মহাপ্রাণ, আন’ অমৃতবাণী,

বিকশিত কর’ প্রেমপদ্ম চিরমধুনিষ্যন্দ।

শান্ত হে, মুক্ত হে, হে অনন্ত পুণ্য,

করুণাঘন, ধরণীতল কর’ কলঙ্কশূন্য।

এস’ দানবীর, দাও ত্যাগকঠিন দীক্ষা।

মহাভিক্ষু, লও সবার অহঙ্কারভিক্ষা।                       

                             -- রবীন্দ্রনাথ 


আজ শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা।  দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায় তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধ পূর্ণিমা সাড়ম্বরে উদযাপন করবে।‘ জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক’-- এই শুভেচ্ছাবাণীর প্রচারক গৌতম বুদ্ধের আবির্ভাব, বোধিপ্রাপ্তি আর মহাপরিনির্বাণ-- এই তিন পুণ্যস্মৃতি বিজড়িত দিনটিকে বুদ্ধ পূর্ণিমা হিসাবে পালন করেন বৌদ্ধধর্মালম্বীরা।


মহামানব বুদ্ধের ত্রিস্মৃতি বিজড়িত বৈশাখী পূর্ণিমা বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব।  বিশ্বের সকল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি বুদ্ধপূর্ণিমা নামে পরিচিত।  এই দিনে বৌদ্ধধর্মাবলম্বীগণ স্নান করেন, শুচিবস্ত্র পরিধান করে মন্দিরে বুদ্ধের বন্দনায় রত থাকেন। ভক্তগণ প্রতিটি মন্দিরে বহু প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত করেন, ফুলের মালা দিয়ে মন্দিরগৃহ সুশোভিত করে বুদ্ধের আরাধনায় নিমগ্ন হন। এছাড়া বৌদ্ধরা এদিনে বুদ্ধ পূজার পাশাপাশি পঞ্চশীল, অষ্টশীল, সূত্রপাঠ, সূত্রশ্রবণ, সমবেত প্রার্থনা করে থাকেন।

 

দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশে এই দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় প্রতি বছরই পালিত হয়। বৌদ্ধধর্মের উৎসব হলেও ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশে সর্বসাধারণের জন্য এই দিনটি সরকারি ছুটি থাকে।  বুদ্ধমন্দিরে, বিহারে চলতে থাকে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দিবস উদ্‌যাপনের যাবতীয় কার্যক্রম। এছাড়া বিভিন্ন গ্রাম ও বিহারে এই দিনে মেলা বসে। সবচেয়ে বড় মেলাটি বসে চট্টগ্রামের বৈদ্যপাড়া গ্রামে, যা বোধিদ্রুম মেলা নামে সমধিক পরিচিত।


বৌদ্ধ সাহিত্য থেকে জানা যায় যে, পূর্বজন্মে বোধিসত্ব সকল পারমি পূরণ করে সন্তোষকুমার নামে যখন স্বর্গে অবস্থান করছিলেন, তখন দেবগণ তাঁকে জগতের মুক্তি এবং দেবতা ও মানুষের নির্বাণপথের সন্ধান দানের জন্য মনুষ্যকুলে জন্ম নিতে অনুরোধ করেন। দেবতাদের অনুরোধে বোধিসত্ব সর্বদিক বিবেচনাপূর্বক এক আষাঢ়ী পূর্ণিমায় স্বপ্নযোগে মাতৃকুক্ষিতে প্রতিসন্ধি গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী এক শুভ বৈশাখী পূর্ণিমায় জন্ম লাভ করেন।  তার জন্ম হয়েছিল লুম্বিনী কাননের শালবৃক্ষ ছায়ায় উন্মুক্ত আকাশতলে। তার নিকট জাতি, শ্রেণি ও গোত্রের কোনো ভেদাভেদ ছিল না। তিনি মানুষকে মানুষ এবং প্রাণীকে প্রাণিরূপেই জানতেন এবং এর প্রাণসত্তার মধ্যেই যে কষ্টবোধ আচে তা তিনি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতেন। তাই তিনি বলেছিলেন, ‘সবেব সত্তা ভবন্তু সুখীতা’-- জগতের সব প্রাণী সুখী হোক।


ঢাকা-চট্টগ্রামসহ সারাদেশে রাষ্ট্রীয় ছুটির এদিনের শুরুতে শান্তি শোভাযাত্রা ও বৌদ্ধ মঠ ও মন্দিরগুলোতে  দিনব্যাপী প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, পূজা ও প্রার্থনার আয়োজন করে বুদ্ধের আদর্শ অনুসারী বৌদ্ধ সম্প্রদায়। এ উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশজুড়ে বৌদ্ধ বিহারগুলোতে বুদ্ধ পূজা, প্রদীপ প্রজ্বলন, শান্তি শোভাযাত্রা, ধর্মীয় আলোচনা সভা, প্রভাত ফেরি, সমবেত প্রার্থনা, আলোচনা সভা ও বুদ্ধ পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও মানব জাতির সর্বাঙ্গীণ শান্তি ও মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। 


বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়সহ সবাইকে  আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।


জ. ন.

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

Video