চট্টগ্রাম বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১
চট্টগ্রাম বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১

জনসেবা

পূর্ব হিঙ্গুলী মৌজার জেএল ১১ নং এর বিএস ৭০৪৩ নং খতিয়ানের ৪৮৯৩ দাগের নাল জমির ৮৮ শতাংশ নিজস্ব মালিকানার অন্দর ৪০ শতাংশ জমি স্কুল নির্মাণের জন্য বরাদ্ধ করেন চেয়ারম্যান।

ইউপি চেয়ারম্যানের অর্থায়নে প্রাথমিক বিদ্যালয়

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : সোমবার, ২০২৪ এপ্রিল ০১, ০৩:৫৯ অপরাহ্ন

অজপাড়া গাঁয়ে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে মিরসরাই উপজেলার ২নং হিঙ্গুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সোনামিয়ার দানকৃত নিজস্ব ৪০ শতাংশ জমিতে নির্মিত হচ্ছে তার মায়ের নামে রসূলপুর ছবুরা খাতুন বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। ২নং হিঙ্গুলী ইউনিয়নের পূর্ব হিঙ্গুলী এলাকায় ৭নং ওয়ার্ডে অবিস্থত রসূলপুর গ্রাম। এটি মূলজনপদ থেকে অনেক দূরে, পাহাড় ঘেষা এলাকায় অবস্থিত। এখানে ৭ ও ৮ নং ওয়ার্ডে প্রায় কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। কিন্তু হাজারো মানুষের বসতি হলেও তাদের সন্তানদের প্রাথমিক শিক্ষা দেয়ার জন্য অন্তত ২-৩ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই।

 

সম্প্রতি ইউপি চেয়ারম্যান উক্ত রসূলপুর এলাকা পরিদর্শন করলে স্থানীয় জনসাধারণের সন্তানদের শিক্ষা বিস্তারের লক্ষে সেখানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণের বিষয়টি সর্বত্র আলোচনায় উঠে আসে। এবিষয়ে স্থানীয় ৭ ও ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের একটি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ইউপি সদস্য সাইফ উদ্দিন মাসুককে আহবায়ক করে স্কুল নির্মাণে সার্বিক সহযোগিতার জন্য মোট ২৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত কমিটিতে শিক্ষানুরাগী, সমাজের সর্দার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভূক্ত করা হয়। কিন্তু বিদ্যালয়ের নির্মাণের জন্য জমি এবং নগদ অর্থের প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবীর প্রেক্ষিতে পরে কমিটির সদস্যগণ চেয়ারম্যানের নিকট স্কুল নির্মাণের দাবী জানালে তিনি পূর্ব হিঙ্গুলী মৌজার জেএল ১১ নং এর বিএস ৭০৪৩ নং খতিয়ানের ৪৮৯৩ দাগের নাল জমির ৮৮ শতাংশ মালিকানার অন্দর ৪০ শতাংশ জমি স্কুল নির্মাণের জন্য বরাদ্ধ করে সেখানে সাইনবোর্ড সাঁটিয়ে দেন। এছাড়া উক্ত বিদ্যালয় নির্মাণে যত টাকা খরচ হবে তা চেয়ারম্যানের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে জানান চেয়ারম্যান মো. সোনা মিয়া।

 

এ বিষয়ে স্কুল নির্মাণ কমিটির আহবায়ক ইউপি সদস্য সাইফ উদ্দিন মাসুক বলেন, এই এলাকার জনগণের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে এবং উক্ত রসূলপুর গ্রামকে শিক্ষিত জনপদে রুপান্তরের লক্ষে স্থানীয় বাসিন্দাদের চাহিদানুযায়ী আমরা একটি স্কুল নির্মাণের পরিকল্পনা করি। পরে মাননীয় চেয়ারম্যান মহোদয় তাতে সম্মতি জ্ঞাপন করে উনার নিজস্ব জমিতে এবং একক অর্থায়নে স্কুল নির্মাণের ঘোষণা করেন। যেহেতু বিদ্যালয়ের জন্য ভূমি এবং নির্মাণখরচ চেয়ারম্যান নিজেই বহন করছেন, তাই উনার মাতা ছবুরা খাতুনের নামে স্কুলের নাম করনের বিষয়টি আমরাই প্রস্তাব করি।

 

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও রসূলপুর বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মো. সোনা মিয়া বলেন, একজন জনপ্রতিনধি হিসেবে আমি আমার নির্বাচনী এলাকার জনগণের সুখ-দু:খের কথা চিন্তা করে তাদের চাহিদার অনেক কিছু পূরণের চেষ্টা করি। তারই ধারাবাহিকতায় পূর্ব হিঙ্গুলী এলাকায় ৭নং ওয়ার্ডের রসূলপুর গ্রামের বাসিন্দাদের চাহিদার কথা চিন্তা করে আমার নিজস্ব জমিতে একটি স্কুল নির্মাণের জন্য মনস্থ করি। কিন্তু স্কুল নির্মাণ কাজ শুরু হলে কিছু দুঃস্কৃতিকারী এই মহতি কাজে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা কোনভাবেই চায়না সেখানে শিক্ষার আলো জ্বলে উঠুক। তারা চায় সেখানকার মানুষকে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত করে অন্ধকারে রাখতে। তাই তারা আমার এই ভালো কাজের পেছনে লেগে আমাকে নানাভাবে অসযোগিতা ও হয়রানি করার চেষ্টা করছে। আমি এই স্কুল নির্মাণে সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।


- নাছির উদ্দিন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

Video