চট্টগ্রাম বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১
চট্টগ্রাম বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১

কৃষি

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের উদ্যোগে এস.এ.সিপি প্রকল্পের আওতায় কমন ফ্যাসিলিটি সেন্টার নির্মাণের মূল লক্ষ্য হলো কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায মূল্য আদায় করা।

মিরসরাইয়ে ১১টি ইউনিয়নে নির্মাণ হচ্ছে কমন ফ্যাসিলিটি সেন্টার

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২০২৪ মে ২১, ০৬:৩১ অপরাহ্ন

কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য একত্রিত করে বাছাই ও প্রক্রিয়াজাত করে বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ১১টি ইউনিয়নে নির্মাণ করা হচ্ছে কমন ফ্যাসিলিটি সেন্টার। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের উদ্যোগে এস.এ.সিপি প্রকল্পের আওতায় কমন ফ্যাসিলিটি সেন্টারগুলো দেয়া হচ্ছে। প্রতিটি কমন ফ্যাসিলিটি সেন্টারের ব্যায় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা করে। যার নির্মাণ খরচের অর্ধেকাংশ কৃষি অধিদপ্তর এবং বাকি অর্ধেকাংশ বহন করবে কৃষক। ১২ ফুট বাই ১৫ ফুট আয়তনের এসব ঘর নির্মাণে ব্যবহার হবে টিন, কাঠ ও ইট। ঘরের ছাউনিতে ব্যবহৃত হবে কাঠ ও টিন। বেড়া হিসেবে দেয়া হবে কাঠ অথবা টিন।  এছাড়া নিচের মেঝে ও বেড়ার দুই হাত পর্যন্ত পাকা করে দেয়া হবে। একজন কৃষক চাইলে কমন ফ্যাসিলিটি সেন্টারে উৎপাদিত পণ্য এনে একত্রিকরণ করে সরাসরি পাইকারের কাছে বিক্রি করতে পারবে। ফলে ফরিয়াদের হাত থেকে রক্ষা পাবে কৃষক। 

 

মিরসরাই উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাছাই, একত্রিকরণ ও বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে নির্মাণ করা হচ্ছে কমন ফ্যাসিলিটি সেন্টার। ইউনিয়নগুলো হচ্ছে ১ নং করেরহাট, ২ নং হিঙ্গুলী, ৩ নং জোরারগঞ্জ, ৫ নং ওসমানপুর, ৮ নং দূর্গাপুর,  ৯ নং মিরসরাই, ১০ নং মিঠানালা, ১১ নং মঘাদিয়া, ১২ নং খৈয়াছরা, ১৩ নং মায়ানি এবং ১৪ নং হাইদকান্দি ইউনিয়ন। ইতোমধ্যে ৩টি কমন সেন্টার নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে। এগুলো হলো- ৩ নং জোরারগঞ্জ, ৮ নং দূর্গাপুর ও ১২ নং খৈয়াছড়া ইউনিয়ন।

 

উপজেলার খৈয়াছড়ি ইউনিয়নের কৃষক শাহ ইমরান সেলিম বলেন, কৃষি অধিদপ্তরের সহযোগীতায় খৈয়াছরা ইউনিয়নে আমি একটি কমন ফ্যাসেলিটি সেন্টার নির্মাণ করেছি। এতে ব্যায় হয়েছে ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। কৃষি অধিদপ্তর ২ লাখ টাকা ও বাকি ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা আমি নিজে দিয়েছি। এখন আমার ও অন্য কৃষকদের উৎপাদিত সবজি এই ঘরে এনে বাছাই করে সংরক্ষণ করি। পরে পাইকাররা এখান থেকে এসে সবজিগুলো কিনে নিয়ে যায়।

 

উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের মামা ফকির আস্তানা এলাকায় কৃষক মো. এয়াছিন, মো. ইসমাঈল, হাসান ফকির, নুরুল আমিন, আবছার আলীসহ ১০৭ জনে মিলে কৃষি অধিদপ্তরের সহযোগিতায় গড়ে তুলেছেন কমন ফ্যসিলিটি সেন্টার। তারা বলেন, নিজের ঘরে নিজে সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ করে বাজারজাতের জন্য প্রস্তুত করা হয়। শীতকালীন দৈনিক ৫-৬ হাজার কেজি, বর্ষাকালীণ ৩-৪ হাজার কেজি এবং গ্রীষ্মকালে দৈনিক ১ হাজার কেজি সবজি প্রক্রিয়া শেষে পাইকারদের কাছে বিক্রি করা হয়। এতে করে সময় ও অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে ।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, প্রত্যেক ইউনিয়নে ২৫ জনের কৃষক গ্রুপ রয়েছে। ওই সকল গ্রুপকে এসব ঘর দেয়া হচ্ছে। কমন ফ্যাসিলিটি সেন্টার নির্মাণের মূল লক্ষ্য হলো কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায মূল্য আদায় করা।


- নাছির উদ্দিন, মিরসরাই

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

Video