বাংলাদেশে অনেক মহিলা ফিস্টুলা রোগে ভূগছে। এ রোগটির চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে নারীরা খুবই অসহায় অবস্থায় থাকে। তারা রোগটির ব্যাপারে কাউকে জানাতে চান না। ফিস্টুলা আক্রান্ত মায়েদের বাচ্চা প্রসব বাঁধাগ্রস্ত হলে প্রসবের রাস্তা দিয়ে অনবরত প্রশ্রাব ও মল ঝরতে থাকে, শরীর থেকে সারাক্ষণ দুর্গন্ধ ছড়ায়। অনেক মহিলার সংসার ভেঙ্গে যায়। চিকিৎসার মাধ্যমে আক্রান্ত নারীদেরকে ফিস্টুলামুক্ত করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর।
সোমবার (২৭ জুন) সকাল ১০টায় বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘প্রসবজনিত ফিস্টুলামুক্ত চট্টগ্রাম’ শীর্ষক কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালার আয়োজন করে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা হোপ ফাউন্ডেশন। কর্মশালায় কক্সবাজারের রামু ও কুতুবদিয়াকে ফিস্টুলামুক্ত উপজেলা ঘোষনা করা হয়।
হোপ ফাউন্ডেশন জানায়, জটিলতার কারণে দেশের বেশীর ভাগ হাসপাতালে ফিস্টুলা অপারেশন হয় না। এ রোগের চিকিৎসা ব্যয় দেড় লাখ টাকা থেকে শুরু করে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ২০১১ সাল থেকে হোপ হসপিটালে ফিস্টুলা রোগীর সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অপারেশন ও চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। এ হসপিটালে কর্মরত সার্জনরা ফিস্টুলা চিকিৎসায় বিদেশে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। তাদের হাতে চিকিৎসা পাওয়া অধিকাংশ ফিস্টুলা রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেয়েছেন। এই হাসপাতাল থেকে প্রতি বছর প্রায় ৮০ জন ফিস্টুলা রোগীর সার্জারী ও চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা পেলে ‘প্রসবজনিত ফিস্টুলামুক্ত চট্টগ্রাম’ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে হোপ ফাউন্ডেশন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, জাতিসংঘ ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্ব থেকে নারীদের প্রসবজনিত ফিস্টুলা রোগ নির্মূলে কর্মসূচি নিয়েছে। অসহায় নারীদের রোগ বলে পরিচিত ফিস্টুলা রোগে বর্তমানে বাংলাদেশের ২০ হাজার নারী ভুগছেন। প্রতি বছর এতে যুক্ত হচ্ছেন আরো এক হাজার নারী। চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও সচেতনতা ও সঠিক তথ্যের অভাবে তারা এ ব্যাপারে কোনো সহযোগিতা পাচ্ছেন না। ফলে সারা জীবন তারা তাদের পরিবার ও সমাজে অভিশপ্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে সবার একটু সহায়তা ও সচেতনতাই তাদের সারা জীবনের দুর্ভোগ দূর করতে পারে।
হোপ ফাউন্ডেশনের ডা. ঈশানী ও ডা. লিজার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. সাখাওয়াত উল্ল্যাহ, সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. সুমন বড়ুয়া, ওজিএসবি’র প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. কামরুন্নেছা রুনা, নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার, রাঙ্গামাটি জেলা সিভিল সার্জন ডা. বিপাস খীসা, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুব্রত কুমার চৌধুরী, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. ওয়াহিদুল আলম, মহিলা বিষয়ক উপ-পরিচালক মাধবী বড়ুয়া, চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আসিফ খান, হোপ ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর কে.এম জাহিদুজ্জামান প্রমূখ।
মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে প্রসবজনিত ফিস্টুলা বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন হোপ হসপিটালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মৃন্ময় বিশ্বাস ও ইউএনএফপিএ’র টেকনিক্যাল অফিসার (ফিস্টুলা এন্ড এমপিডিএসআর) ডা. অনিমেষ বিশ্বাস।
শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন হোপ ফাউন্ডেশন চট্টগ্রামের কো-অর্ডিনেটর বাবুল চৌধুরী। কর্মশালায় স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক, হোপ ফাউন্ডেশনের চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা অংশ নেন।
মন্তব্য করুন