চট্টগ্রাম সোমবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১
চট্টগ্রাম সোমবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১

জাতীয়

তবে জাতীয় অর্থনীতি ‘কোনোভাবেই সমস্যায় পড়েনি’: অর্থমন্ত্রী

আইএমএফের কাছে ঋণ চেয়েছে বাংলাদেশ


প্রকাশিত : বুধবার, ২০২২ জুলাই ২৭, ০৭:৫৫ অপরাহ্ন
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

ঋণ প্রদানের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-কে আলোচনা শুরু করতে বলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে দিয়ে দেশটি আন্তর্জাতিক সংস্থার দ্বারস্থ সর্বশেষ দক্ষিণ এশীয় দেশ হয়ে উঠেছে মর্মে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রয়টার্স।

 

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দেশের একটি পত্রিকাকে বলেছেন, বাংলাদেশ যখন আইএমএফকে ঋণের আলোচনা শুরু করতে বললেও বাংলাদেশের অর্থনীতি কোনোভাবেই সমস্যায় পড়েনি

 

মন্ত্রী বলেছেন, গত ২৪ জুলাই আইএমএফকে পাঠানো চিঠিতে তিনি ঋণের কোনো পরিমাণ উল্লেখ করেননি। বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন দুটি সূত্র, যাঁরা শুধুমাত্র অর্থমন্ত্রীই গণমাধ্যমের সাথে কথা বলার জন্য অনুমোদিত বলে জানিয়ে নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে অস্বীকার করে বলেছেন, সরকার কত টাকা চায়, সে-ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি।

 

পত্রিকাটায় আজ ২৭ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে কামাল বলেন, অর্থপ্রদানে ভারসাম্য আনার এবং বাজেট সহায়তার জন্য ঋণ প্রদানের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে আইএমএফকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

 

অর্থমন্ত্রী বলেন, কখন এবং কত ঋণ পাওয়া যাবে তা নির্ভর করবে তাদের উপর। আমাদের বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা বলতে গেলে, আমরা কোনোভাবেই সমস্যায় পড়িনি।

 

এ সম্পর্কিত রয়টার্স প্রতিবেদনটির ব্যাপারে মন্তব্য করতে অনুরোধ জানানো হলে, মন্ত্রী তার কোনো জবাব দেননি।

 

গতকাল ২৭ জুলাই আইএমএফের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, বাংলাদেশ সংস্থাটিকে বৈশ্বিক ঋণদাতার স্থিতিস্থাপকতা এবং স্থায়িত্ব ট্রাস্টের অধীনে একটি নতুন ঋণ নিয়ে আলোচনা শুরু করতে বলেছে। এ ধরনের তহবিল একটি দেশের কোটার দেড়শ শতাংশ বা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ একশ কোটি ডলারে সীমাবদ্ধ।

 

বাংলাদেশের আরেকটি পত্রিকা গতকাল জানিয়েছে, দেশটি আইএমএফের কাছে সাড়ে চারশ কোটি ডলার চায়।

 

দেশটির ৪১,৬০০ কোটি ডলারের অর্থনীতি বছরের পর বছর ধরে বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু বর্তমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এর আমদানি বিল এবং চলতি হিসাবের ঘাটতি বেড়েছে।

 

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মূল ভিত্তি হল এর রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস শিল্প, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দার কারণে ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বাজারে বিক্রি কমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। গার্মেন্টসের পর প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিটেন্স বাংলাদেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উৎস।

 

এদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এক বছর আগেকার ৪,৫৫০ কোটি ডলার থেকে গত ২০ জুলাই পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ৩,৯৬৭ কোটি ডলারে নেমে আসে, যা দিয়ে মোটামুটি আগামী সাড়ে পাঁচ মাসের আমদানি খরচ মেটানো যেতে পারে।  

 

গতবছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত বাংলাদেশের চলতি অ্যাকাউন্টের ঘাটতি ছিল ১,৭২০ কোটি ডলারের, যদিও তার আগে এ ঘাটতির পরিমাণ ছিল মাত্র ২৭৮ কোটি ডলারের। বাণিজ্য ঘাটতি বিস্তৃত হওয়ায় এবং রেমিটেন্স কমার ফলে ঘাটতি বেড়ে গেছে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

Video