ফিস্টুলা সম্পর্কে জনসচেনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের আয়োজন করে হোপ ফাউন্ডেশন। ১৫ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম.এস তাহের খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন এম.এস মোর্শেদ খান, অধ্যাপক সাইফুদ্দিন সিদ্দিকী, অধ্যাপক তাহেরা বেগম, ডা. নুরুল হক প্রমুখ।
বাংলাদেশে অনেক মহিলা ফিস্টুলা রোগে ভূগছে। ফিস্টুলা আক্রান্ত মায়েদের বাচ্চাপ্রসব বাধাগ্রস্থ হলে প্রসবের রাস্তা দিয়ে অনবরত প্রশ্রাব ও মল ঝরতে থাকে, শরীর থেকে সারাক্ষণ দুর্গন্ধ ছড়ায়। এ রোগটির চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে চিকিৎসাবঞ্চিত নারীরা খুবই অসহায় অবস্থায় থাকে। অনেক মহিলার সংসার ভেঙ্গে যায়। ফিস্টুলা প্রতিরোধে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসার মাধ্যমে আক্রান্ত নারীদেরকে ফিস্টুলামুক্ত করার কার্যক্রম চালিয়ে যাচেছ হোপ ফাউন্ডেশন।
সভায় হোপ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়, জটিলতার কারণে দেশের বেশীর ভাগ হাসপাতালে ফিস্টুলা অপারেশন হয় না। এ রোগের চিকিৎসা ব্যয় দেড় লাখ টাকা থেকে শুরু করে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ২০১১ সাল থেকে হোপ হসপিটালে ফিস্টুলা রোগীর সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অপারেশন ও চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। এ হসপিটালে কর্মরত সার্জনরা ফিস্টুলা চিকিৎসায় বিদেশে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। তাদের হাতে চিকিৎসা পাওয়া অধিকাংশ ফিস্টুলা রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেয়েছেন। এই হাসপাতাল থেকে প্রতি বছর প্রায় ৮০ জন ফিস্টুলা রোগীর সার্জারী ও চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।
ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে প্রসবজনিত ফিস্টুলা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন প্রধান আলোচক হোপ হসপিটালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মৃন্ময় বিশ্বাস। বক্তব্য রাখেন হোপ ফাইন্ডেশনের মেডিক্যাল অফিসার ঈশানী সরকার, প্রজেক্ট ম্যানেজার আজমল হুদা, প্রজেক্ট কো-অডিনেটর বাবুল চৌধুরী।
সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা পেলে ‘প্রসবজনিত ফিস্টুলামুক্ত চট্টগ্রাম’ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে হোপ ফাউন্ডেশন।
- মা.ফা