চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে
বারৈয়াঢালা জাতীয় উদ্যানের জীববৈচিত্র পুঃনপ্রতিষ্ঠা, সাইকাস গাছের সংরক্ষণ, প্রাকৃতিকভাবে
পানির সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক ঝর্ণাগুলোতে পরিবেশ বান্ধব পর্যটন সৃষ্টি নিয়ে একটি প্রকল্প
হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করা হয়েছে।
৬ মে শনিবার সকালে খৈয়াছরা ঝর্ণা এলাকায় এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভায়
অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত
অধ্যাপক ড. কামাল হোসেন, বন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিভাগীয় বন সংরক্ষক শেখ বকতিয়ার নূর
সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ওবায়দুল
করিম, ফরেস্ট্রি বিভাগের সিনিয়র গবেষনা সহায়ক মো. নূর আলী, ফরেস্ট্রি বিভাগের গবেষনা
সহায়ক সমর সিনহা, বারৈয়াঢালা রেঞ্জ কর্র্মকর্তা একেএম আলতাফ হোসেন, বারৈয়াঢালা সহ ব্যবস্থাপনা
নির্বাহী কমিটির সভাপতি মো. সরওয়ার উদ্দিন, বড়তাকিয়া বিট কর্মকর্তা মো. মামুন।
সভায় অতিমুল্যবান ও দুর্লভ সাইকাস গাছের সংরক্ষণ, ঝর্ণাগুলোতে পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং প্রাকৃকিকভাবে প্রাপ্ত পানির যথাযথ ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, বারৈয়াঢালা জাতীয় উদ্যানের আওতাধীন যে সকল ঝর্ণাকে কেন্দ্র করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে, সেসব ঝর্ণাগুলোতো ভবিষ্যতে কোন পর্যটক যাতে হতাহত ও হয়রানির শিকার না হয় সে জন্য প্রকল্পের আওতায় একটি রোডম্যাপ তৈরী করা হবে। ঝর্ণাগুলোর প্রবেশ পথ থেকে শুরু করে ঝর্ণা পর্যন্ত জিপিআরএস-এর আওতায় নিয়ে আসা হবে। পর্যটকরা যাতে নির্দিষ্ট জায়গা অতিক্রম করতে না পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতামুলক ব্যানার, ফেস্টুনের মাধ্যমে সতর্কতা সাইনবোর্ড সাঁটিয়ে সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে। বিগত দিনে ঝর্ণাগুলোতে যে সকল পর্যটক হতাহত হয়েছেন তাদের হতাহতের স্থান নির্ধারণ করে দূর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্কতা নোটিশ সাঁটানো হবে। এছাড়া অতিদূর্বল মহৌষধী সাইকাস গাছের সংরক্ষণ করা হবে। অন্যদিকে প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত ঝর্ণা ও লেকের পানি সংরক্ষণ করে কৃষি এবং শিল্প কারখানার কাজে ব্যবহারের উপযোগী করা হবে। এই পানি ব্যবহারের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির উপর চাপ কমানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে এই প্রকল্পের আওতায়। আর এরজন্য স্থানীয় সাংবাদিকদের লেখনির মাধ্যমে তাদের সহযোগিতা কামনা করেন অতিথিবৃন্দ। এসময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন অতিথিবৃন্দ।
- নাছির উদ্দিন/মিরসরাই