জেলার বিভিন্ন
উপজেলায় যে সকল ইটভাটা রয়েছে সেগুলোর মধ্যে কিছু কিছু ভাটায় ম্যানুয়ালি ও অটো পদ্ধতির
পাশাপাশি ব্লক-ইট তৈরী করা হচ্ছে। ভাটায় ব্লক ইট তৈরী করলে অন্য ইটভাটার মতো পরিবেশ
দূষণ করবে না। বায়ুদুষণ রোধসহ পরিবেশবান্ধব ব্লক-ইট তৈরীর কোন বিকল্প নেই। যাদের একাধিক
ইটভাটা রয়েছে চলতি বছরের মধ্যেই তাদের অন্ততঃ ২৫ শতাংশ ভাটায় ব্লক-ইট তৈরী করে সরবরাহ
নিশ্চিত করতে হবে। ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ইট তৈরী কার্যক্রম ধীরে ধীরে বন্ধ করে দিতে হবে।
কৃষি জমির উর্বরতা বৃদ্ধি ও আশানুরূপ ফসল ফলানোর লক্ষ্যে টপ্-সয়েল কর্তন থেকে বিরত
থাকতে হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্পষ্ট নির্দেশনা মানতে হবে এবং বাসযোগ্য
পৃথিবী গড়তে ব্লক ইট তৈরীর বিষয়টি বাস্তবায়ন করতে হবে।
১৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার
সকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে ‘ইট প্রস্তুত ও
ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ অনুসরণ ও পোড়ানো ইটের পরিবর্তে ব্লক ব্যবহারের চ্যালেঞ্জ
মোকাবেলায় করণীয়’ সংক্রান্তে ইটভাটা মালিক-সমিতির নেতৃবৃন্দের
সাথে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল
বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান।
তিনি বলেন, নতুন
করে আর কোন ইটভাটার লাইসেন্স দেয়া হবে না। যেগুলো আছে সেগুলো থেকে পর্যায়ক্রমে কমিয়ে
এনে পরিবেশবান্ধব ইটভাটাগুলো রাখা হবে। চাহিদা থাকলে ব্লক-ইটের সরবরাহ বাড়বে। প্রকৃত
ও বৈধ ইটভাটা মালিকগণ যাতে কোন ধরণের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন না হয় সে লক্ষ্যে গণপূর্ত,
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল, সড়ক ও জনপথ (সওজ), শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রকৌশলসহ বিভিন্ন সরকারী
প্রতিষ্ঠান ও দপ্তর এবং সিপিডিএল ও স্যানমারসহ বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে
যোগাযোগের মাধ্যমে ব্লক ইটের চাহিদাপত্র নিয়ে ইটভাটা মালিক পক্ষকে জানিয়ে দেয়া হবে।
আগামী মাসে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মহোদয়কে নিয়ে ইটভাটা ব্যবসা সংক্রান্তে
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার বাস্তবায়নে চট্টগ্রামে একটি সভা আহবান করা হবে। সিটি মেয়র,
সিডিএ চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও জেলা-উপজেলা ইট প্রস্তুতকারী
মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের থেকে একজন করে প্রতিনিধিকে সভায় আমন্ত্রণ জানানো হবে।
বালি সরবরাহ বিষয়ে
ইটভাটা মালিকদের প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, কর্ণফুলী নদীসহ রাউজান, রাঙ্গুনিয়া
ও অন্যান্য এলাকার বিভিন্ন ছোট-বড় খালে বালির অভাব নেই। এখনো যে পরিমান বালি আছে তাতে
আগামী ৫ বছরেও আশা করি কোন সমস্যা হবে না, আপনারা আবেদন করেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যে
বালির ব্যবস্থা হবে।
সভায় পরিবেশ অধিদপ্তর
চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. ফেরদৌস আনোয়ার বলেন, ব্লক ইট তৈরীর ছাড়পত্রের
জন্য ইটভাটা মালিকগণ প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট দিয়ে আবেদন করলে তা শুনানী শেষে দ্রুততার সাথে
দেয়া হবে। কোন ধরণের বেগ পেতে হবে না। ছাড়পত্র পেলে বিদ্যুৎ সংযোগও দ্রুত সময়ে পাওয়া
যাবে। জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর এ ব্যাপারে সহযোগিতা করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবদুল মালেক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) একেএম গোলাম মোর্শেদ খান, চট্টগ্রাম জেলা ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির সভাপতি ও রাউজান পৌরসভার মেয়র মো. জমির উদ্দিন পারভেজ, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদারসহ বিভিন্ন উপজেলা ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকগণ বক্তব্য রাখেন।
- মা.ফা.