প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্রব্যমূল্য
নিয়ন্ত্রণ রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন। ১৫ জানুয়ারি সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রীসভার বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে তিনি এ কথা বলেন।
মাহবুব হোসেন আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা তাঁর তরফ থেকে কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন
মুদ্রাস্ফিতি বা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের প্রতি। প্রধানমন্ত্রী মুদ্রাস্ফিতি বা দ্রব্যমূল্য
নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি নির্দেশ দেন।
বিশেষ করে আগামী রমজান মাসে যাতে দ্রব্যমূল্য
নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং একই সঙ্গে রমজান সংশ্লিষ্ট পণ্য, যেগুলোর চাহিদা বেড়ে যায়, সেগুলোর
মূল্য স্বাভাবিক থাকে সে বিষয়ে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে সোমবার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক
অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন
প্রানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভায় মূলত একটি বিষয় আলোচনা হয়েছে। সেটি হলো মহামান্য রাষ্ট্রপতির
ভাষণ অনুমোদন।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন, যখন কোন সরকার
কাজ শুরু করেন, তখন যে অধিবেশনটা হয় সে অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ প্রদান করেন। সে ভাষণের
খসড়া আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপিত হয়েছিল, তা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শুরুর আগে মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
মাহবুব হোসেন আরো বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ
অনুমোদন ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর তরফ থেকে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নির্বাচনের আগে একটি ইস্তেহার দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সকল
মন্ত্রণালয়কে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন যে ইস্তেহারে ওই মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো
ভিত্তি করে এখনই কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে এবং সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী তা বাস্তবায়ণ
করা ও মনিটরিং করা।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা কৃষি উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতেও নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
কৃষি উৎপাদন যাতে কোনভাবেই ব্যাহত না হয়, সেদিকে নজর রাখতে বলেছেন। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য
সংরক্ষণের জন্য সংরক্ষণাগার রয়েছে, প্রয়োজনে কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য যাতে আরো সংরক্ষণাগার
তৈরি করা হয়ে সে বিষয়েও নির্দেশনা দিয়েছেন।
মাহবুব হোসেন বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশের
জন্য চারটি স্তম্ভের কথা আমরা জানি। এই স্তম্ভগুলো হলো-স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট সোসাইটি,
স্মার্ট অর্থনীতি ও স্মার্ট সরকার। এই চারটি স্তম্ভকে ভিত্তি করে সকল মন্ত্রণালয়কে
ওই স্তম্ভগুলো যে মন্ত্রণালয়ের যতটুকু জড়িত, তারা যেন সেগুলো নিয়ে কর্মপরিকল্পনা প্রনয়ন
করে বাস্তবায়ন করে।
তিনি বলেন, যে প্রকল্পগুলো প্রায় শেষ পর্যায়ে
রয়েছে, সেগুলো যেন দ্রুত শেষ করা হয়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। যে
প্রকল্পগুলো থেকে জনগণ সরাসরি উপকার পাবে, সে প্রকল্পগুলো দ্রুত গ্রহণের নির্দেশনা
দিয়েছেন তিনি। নতুন প্রকল্প নেওয়ার আগে সেগুলো কিভাবে জনগণের কল্যাণে আসবে, সে বিষয়টি
খুব ভাল করে পরীক্ষা করে যাচাই—বাছাই করে প্রকল্প নেওয়ার জন্য নির্দেশনা
দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
মাহবুব হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনা সরকারী ক্রয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবাদিহীতার কথা বলেছেন। তিনি (প্রধানমন্ত্রী)
জানিয়ে দিয়েছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি দেখানো হবে। সকলকে তিনি একই
নীতি অনুসরণ করার নির্দেশ প্রদান করেছেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সামাজিক
নিরাপত্তা বলয়ের যে সব কর্মসূচি আছে, সেগুলো যাতে প্রকৃত উপকারভোগীরা পায় সে বিষয়ে
মনিটরিং করার বিষয়েও নির্দেশনা দিয়েছেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকারী যেসব শূন্য
পদ রয়েছে, সেসব শূন্য পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, নারী উন্নয়নে এবং নারীর ক্ষমতায়নে
সাফল্যের যে ধারা তৈরি হয়েছে, সেটি যেন কোন অবস্থাতেই ব্যাহত না নয়, সেদিকে নজর দিতে
বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মাহবুব হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনা রফতানী বহুমুখীকরণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন। পণ্যের নতুন
নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং সে বাজারে প্রবেশের জন্য কিভাবে সহায়তা করা যায় সে বিষয়েও
নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশেষ করে তিনটি
পণ্যের ক্ষেত্রে বলেছেন। পণ্য তিনটি হলো, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য
এবং কৃষিজাত পণ্য। এই তিনটি পণ্যকে আমরা গামেন্টস শিল্প বিকাশে যেভাবে সহায়তা দিয়েছিলাম,
সেভাবে সহায়তা দিতে বিশেষ করে এই তিনটি পণ্যের ক্ষেত্রে বিশেষে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য
তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন।
মাহবুব হোসেন বলেন, শিক্ষার ক্ষেত্রে আইসিটি
শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে সংশিলষ্টদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা। শিক্ষার্থীদের কর্মমূখী করে গড়ে তুলতেই তিনি এই নির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রী আইসিটি
ক্ষেত্রের শিক্ষার্থীরা যাতে ফ্রিল্যান্সিং আরো বাড়াতে পারে সে বিষয়েও বিশেষ উদ্যোগ
নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা দেন।
তিনি জানান, যুব সমাজকে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক
চর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার বিষয়েও নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যাতে করে
যুব সমাজ মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ থেকে দূরে থাকতে পারে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অগ্নি সন্ত্রাস ও নাশকতাকে সমন্বিতভাবে মোকাবেলা করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশনা দিয়েছেন।
- মা.ফা