ভারত মহাসাগরে জলদস্যুদের হাতে জিম্মি বাংলাদেশী জাহাজের নাবিকদের সুস্থ
ও নিরাপদে ফেরত আনার বিষয়ে সরকার বদ্ধপরিকর। ১৩ মার্চ বুধবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে
আসন্ন ঈদুল ফিতরে ফেরি, স্টিমার, লঞ্চসহ জলযান সুষ্ঠুভাবে চলাচল এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা
নিশ্চিতে কর্মপন্থা গ্রহণের বৈঠকের শুরুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী নাবিকরা সুস্থ এবং
ভালো আছেন। যে কোনো মূল্যে নাবিকদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের
শিপিং ব্যবস্থা বিশ্বের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। মঙ্গলবার আমরা বিষয়টি অবগত হওয়ার পর পররাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়সহ আন্তর্জাতিক সবগুলো উইংস নৌপরিবহনের সঙ্গে কাজ করে তাদের সবার সঙ্গে যোগাযোগ
করেছি। নৌবাহিনীর আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বেশি, তাদের সাথেও যোগাযোগ হয়েছে।
অপহৃত ক্রুদের পরিবারগুলোর উদ্বেগ্নের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা সামাজিক
জীব, পরিবার নিয়ে বসবাস করি। যে পরিবারগুলোর সদস্যরা সেখানে আটকে আছে, সেই পরিবারগুলোর
কীভাবে দিন যাচ্ছে সেটা আমরা অনুভব করছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে
নির্দেশনা দিয়েছেন। অন্যান্য জায়গাগুলোতে তিনি কথা বলেছেন। নাবিকদের নিরাপদে বাংলাদেশে
ফেরত আনার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।’’
হাইজকৃত বাংলাদেশী জাহাজ এমভি আবদুল্লাহকে
জলদস্যুরা সোমালিয়া উপকূলে তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাচ্ছে। জাহাজটির মালিক কেএসআরএম-এর
একটি সহযোগী সংস্থা এসআর শিপিং জাহাজটি উদ্ধারে অব্যহতভাবে জলদস্যুদের সাথে যোগাযোগের
চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
১৩ মার্চ বুধবার কেএসআরএম গ্রুপের মিডিয়া
অফিসার মিজানুল ইসলাম গণমাধ্যমে জানান, “আমরা এখনও জলদস্যুদের সাথে যোগাযোগ করতে না পারলেও,
আমাদের কর্মকর্তারা কয়েকজন ক্রু সদস্যের সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছেন। তারা আমাদের
জানিয়েছেন যে-জলদস্যুরা জাহাজটি সোমালিয়ায় নিয়ে যাচ্ছে।” তিনি
আরো বলেন, জাহাজে মোট ১৩ জন ক্রু রয়েছেন। তারা সবাই নিরাপদ ও সুস্থ আছেন। এবং জাহাজটি
এখন সম্পূর্ণ জলদস্যুদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মিজানুল আরো বলেন, কেএসআরএম ও এসআর শিপিং
বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সকল আন্তর্জাতিক সংস্থাকে জানিয়ে তাদের সহযোগিতা চেয়েছে।
‘আমরা আমাদের
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও এ বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা পাচ্ছি।’
জলদস্যুরা যোগাযোগ না করা পর্যন্ত ক্রু বা জাহাজ উদ্ধারের জন্য আলোচনা শুরু করার কোন সুযোগ নেই- উল্লেখ করে মিজান বলেন, “আমরা আশাবাদী যে-সোমালিয়া উপকূলে জাহাজটিকে তাদের নিরাপদ এলাকায় নিয়ে যাওয়ার পর জলদস্যুরা যোগাযোগ করবে। এছাড়াও জাহাজের যুক্তরাজ্য ভিত্তিক বীমাকারী ইতিমধ্যে জলদস্যুদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে।”
- মা.ফা