কয়েক বছর আগেও দেশে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু। কিন্তু সরকারের শক্ত অবস্থান, সিটি কর্পোরেশনের তদারকি, সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিদের পরিশ্রমের কারণে ডেঙ্গু এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একই সাথে সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব হয়েছে। ১৭ জুলাই রাজধানীর কাকরাইলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের হলরুমে “লঞ্চিং অব ২০২০ গ্লোবাল স্টেট অব দ্য ওর্য়াল্ড ভলান্টারিজম রিপোর্ট স্ট্রেনদেনিং ভলান্টারিয়াজম টুয়ার্ডস ইনক্লুসিভ, ব্যালেন্সড সোসাইটিজ এন্ড সাপোর্ট টু এসডিজি ইন বাংলাদেশ” শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, ইউনাইটেড ন্যাশনস ভলান্টিয়ার (ইউএনভি) এবং ইউএনডিপির বাংলাদেশ যৌথভাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মো.তাজুল ইসলাম আরো বলেন, এই রোগে গত দু’তিন বছরে কিছু মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন, আবার দুঃখজনক হলেও সত্য বেশ কয়েকজন লোক মারাও গেছেন। কিন্তু সার্বিকভাবে পার্শ্ববর্তী দেশ সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইনের চেয়ে আমাদের অবস্থা ভালো ছিলো এবং এখনো পর্যন্ত ভালো অবস্থানে রয়েছে।
মন্ত্রী রাজধানীতে জলাবদ্ধতা না হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে আরো জানান, এবছর ঢাকায় এখন পর্যন্ত জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি। জলাবদ্ধতার কারণে নগরবাসীর যে অবর্ণনীয় কষ্ট হতো, সেটি কিন্তু এখন আর নেই। কারণ ঢাকা ওয়াসার কাছ থেকে সিটি কর্পোরেশনের কাছে খালগুলো হস্তান্তর করায় দুই মেয়র জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অনেক কাজ করেছেন। তারা দখল হয়ে যাওয়া খালগুলো উদ্ধার করে সংস্কার, খনন ও পুনঃখনন এবং ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেছেন, যার কারণেই আজকের এই সুফল পাওয়া যাচ্ছে।
ঢাকা শহরসহ সারা দেশে ময়লা আবর্জনা সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মধ্যে নিয়ে আসাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন আমরা এই বিষয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। সরকার বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে এবং খুব শীঘ্রই ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে কোনো স্বেচ্ছাসেবক নীতিমালা নেই। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে একটি জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক নীতিমালা প্রণয়নের অনুরোধ জানানো হয়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করে তাঁর সম্মতি নিয়ে জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু করা হয়। তিনি বলেন, নীতিমালা প্রণয়নে ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করে অনেকগুলো সভা এবং তৃণমূল ও বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে এই নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং মন্ত্রিপরিষদে এই নীতিমালা প্রণয়নে নীতিগত সিদ্ধান্ত দিয়েছে।
ইউএনভি বাংলাদেশের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর আকতার উদ্দিনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন একশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবীর এবং ইউএনভির এশিয়া এন্ড দ্যা প্যাসিফিকের রিজিওনাল ম্যানেজার দিমিত্রি ফ্রাসচিন এবং অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সিনিয়র সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান এবং জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গইয়েন লিউজ।
- মাইশা ফাইরোজ / মনজু জে হোসাইন