‘চয়েস’ বাস। বারইয়ারহাট
তথা উত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের পরিচিত একটি নাম। এই বাস সার্ভিসের নামে রয়েছে
যাত্রীদের হাজারো অভিযোগ। তবুও কর্তৃপক্ষের সে দিকে কোন দৃষ্টিপাত নেই। প্রতিদিন এই
রুটে চয়েস পরিবহনের কয়েকশ বাস চলাচল করে। সকাল ৬ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত প্রায় ৬০-৭০
টি বাস বারইয়ারহাট থেকে চট্টগ্রাম শহরের মাদারবাড়ী পর্যন্ত যাত্রী পরিবহণ করে।
চট্টগ্রাম মাদারবাড়ীতে
তাদের নির্দিষ্ট স্টপেজ থাকলেও, বারইয়ারহাটে তাদের নির্ধারিত কোন স্টপেজ নেই। আর এর
জন্য মালিক পক্ষ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি অধ্যাবধি কেউ কার্যকর কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেন
নি। অথচ এই বাসগুলো প্রতিদিন দেশের লাইফ লাইনখ্যাত অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-চট্টগ্রাম
মহাসড়কের বারইয়ারহাট অংশের দুইপাশে দাঁড়িয়ে থাকে। এছাড়া বারইয়ারহাটের উত্তর পাশে মিডিয়ান
গ্যাপে মহাসড়কের উপর গাড়ী দাঁড় করিয়ে পানি ছিটিয়ে গাড়ীগুলো ধুয়ে পরিস্কার করা হয়। এতেকরে,
মহাসড়কে চলাচলরত অন্যান্য গাড়ী মিডিয়ান গ্যাপে রুট পরিবর্তন করার সময় মারাত্মক দূর্ঘটনার
ঝুঁকি ও ভোগান্তিতে পড়ে। বছরের পর বছর এমন
বেআইনি কর্মযজ্ঞ চলে আসলেও দেখার যেন কেউ নেই!
সরেজমিনে গিয়ে
দেখা যায়, চয়েস বাসগুলো সারিবদ্ধ হয়ে সড়কের দুই পাশের একাংশ করে দখল করে রেখেছে। ফলে
সড়কের পাশে থাকা কাঠ মার্কেটের কাঠের দোকানগুলোর দৈনন্দিন ব্যবসায়ীক কার্যক্রমে মারাত্মক
অসুবিধা হচ্ছে। লোকসান গুণতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। একাধিক কাঠ ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন,
বাস দাঁড়িয়ে থাকার কারণে মার্কেটের সামনে গাছ লোড-আনলোড করা যায় না। ক্রেতারা দোকান
দেখতে পায় না এবং কাঠ ও কাঠের তৈরী আসবাবপত্র পরিবহন করার জন্য গাড়ীগুলো দোকান পর্যন্তও
নিতে পারেন না।
মুহুরিগঞ্জ থেকে
আসবাবপত্র কিনতে আসা জনৈক রহিম বাদশা বলেন, আমার ঘরের জন্য কয়েক পদ আসবাবপত্র কেনার
জন্য পছন্দের কাঠের দোকানে আসছি। কিন্তু বাসের কারণে দোকান দেখতে না পেয়ে দোকান খুঁজে
পেতে কষ্ট হয়েছে। পরে পণ্য কিনে কিছুদূরে গাড়ী রেখে সেগুলো দোকান থেকে সেখানে নিয়ে
গাড়ীতে তুলতে হয়েছে।
এ বিষয়ে বারইয়ারহাট
কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. সোনা মিয়া বলেন, এই ‘চয়েস’ বাসের কারণে
আমাদের ব্যবসায়ীদের নানাবিধ অসুবিধা হচ্ছে। একাধিক ব্যবসায়ী সমিতি বরাবর অভিযোগ করেছে।
কিন্তু নির্দিষ্ট কোন স্টপেজ না থাকায় এবং বাসের মালিক পক্ষ গাড়ীগুলো সড়ক থেকে অন্যত্র
না সরানোর কারণে এই দূর্ভোগ পোহাচ্ছি। আমরা দ্রুত এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে যথাযথ
কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এ বিষয়ে ‘চয়েস’ বাস মালিক সমিতির
সভাপতি মো. আব্দুর রহিম বলেন, দূর্ভোগের বিষয়টি আমরা জানি। কিন্তু আমাদের সীমাবদ্ধতার
কারণে এবং সরকারীভাবে কোন বাস স্টপেজ না থাকায় আমরা গাড়ীগুলো সড়ক থেকে সরাতে পারছি
না। আমরা স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ করছি যেন দ্রুত আমরা একটা
স্টপেজ করতে পারি।
এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসেন বলেন, মহাসড়কের উপর কোন যানবাহন রং পার্কিং করলে বা যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।
- নাছির উদ্দিন/মিরসরাই