বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার
ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্তে গোলাবর্ষণে প্রাণহানির ঘটনায় ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত
অং কিউ মোয়েকে আবারও তলব করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে এক মাসের মধ্যে চতুর্থ
দফায় তলব করা হচ্ছে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে।
গতকাল ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর
সেগুনবাগিচায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার অণু বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক
নাজমুল হুদার দপ্তরে তাঁকে তলব করা হয়।
এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে মিয়ানমারের
পাহাড় থেকে ছোঁড়া একাধিক মর্টার শেল মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ওয়ালিডং পাহাড়ের পাদদেশের
শূন্যরেখার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে এসে পড়ে। এতে প্রাণ হারায় মো. ইকবাল নামের এক কিশোর।
আহত হয় আশ্রয় শিবিরের এক শিশুসহ আরো পাঁচজন বাসিন্দা।
একইদিন বিকাল ৩টায় তুমব্রু সীমান্তের
বিপরীতে শূন্যরেখার ৩৫ নম্বর পিলারের কাছাকাছি জায়গায় গরু আনতে গেলে স্থলমাইন বিস্ফোরণে
অথোয়াইং তঞ্চঙ্গ্যা (২২) নামের বাংলাদেশি এক তরুণের বাঁ পায়ের গোড়ালি উড়ে যায়।
ঘুমধুমের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হেডম্যানপাড়ার
বাসিন্দা ওই তরুণের চিকিৎসা চলছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। শূন্যরেখায়
আরো মাইন পোঁতা থাকতে পারে, এমন শঙ্কায় মাঠে যাচ্ছেন না আতঙ্কিত কৃষকেরা।
এদিকে, শনিবারও সকাল থেকে দুপুর
পর্যন্ত রাখাইনের ওয়ালিডং পাহাড়ে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়।
গত ৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায়
মিয়ানমারের যুদ্ধবিমান থেকে ছোঁড়া দুটি গোলা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম
এলাকায় পড়ে। সব মিলিয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্তত তিনবার বান্দরবানের তুমব্রু সীমান্তের
ভেতরে মিয়ানমারের ছোঁড়া গোলা এসে পড়ে।
সেসব ঘটনায় তিনবার তলব করা হয়েছিল
দেশটির রাষ্ট্রদূতকে। কিন্তু এর পরও মিয়ানমার সীমান্তে মর্টার শেল ছোড়া অব্যাহত রেখেছে।
আক্রান্ত এলাকায় মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা বাস্তুচ্যুত প্রায় সাড়ে চার হাজার রোহিঙ্গা
বসবাস করে।
গত ২৮ আগস্ট মিয়ানমার থেকে ছোড়া
দুটি মর্টারশেল বান্দরবানের ঘুমধুম এলাকায় এসে পড়ার ঘটনায় পরদিন ২৯ আগস্ট দেশটির রাষ্ট্রদূতকে
তলব করে কড়া প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানায় বাংলাদেশ।
ওই সময় পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন
মোমেন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে আমরা ডেকেছি। একটা মৌখিক নোটের
মাধ্যমে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে।