"সরকার এই মুহূর্তে জনগণের নিরাপত্তার
বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে আমরা কঠোর অবস্থানে
রয়েছি।"
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন
পারভীন তিবরীজি গতকাল শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, "প্রথমত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার, আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের এলার্ট করা হয়েছে। তারা যেন জনগণকে নিরাপদে থাকার নির্দেশনা দেন। এখন জরুরি সভার আহ্বান করা হয়েছে। সবাই মিলে বসে সিদ্ধান্ত নেব সীমান্তের মানুষদের আরো কীভাবে নিরাপদে রাখা যায় সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার।"
তিনি বলেন, “এলাকাবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থ চিন্তা করে আমরা গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার মধ্যে
ঘুমধুমের এসএসসি পরীক্ষার সেন্টার পরিবর্তন করেছি। রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে
সীমান্তের শূন্যরেখায় এসে পড়া মর্টার শেলের আঘাতে কয়েকজন হতাহত হওয়ার পর ঘটনাটি ঘটেছে। আমরা
সে-মুহূর্তেই সিদ্ধান্ত নিয়ে এসএসসি পরীক্ষার সেন্টার পরিবর্তনের কাজ করেছি। আমরা ছাত্রছাত্রীদের
নিরাপত্তার বিষয়টি চিন্তা করেছি, ঠিক একইভাবে স্থানীয় জনসাধারণের বিষয়টি চিন্তা করে
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, শুক্রবার
রাতে মর্টার শেলের আঘাতে এক রোহিঙ্গা কিশোর নিহত এবং আরো এক শিশুসহ পাঁচজন আহত হওয়ার
পর থেকে সীমান্ত এলাকার অধিবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। এ সময় তুমব্রু সীমান্তে থাকা
দুই গ্রামের ৬০টি পরিবার পার্শবর্তী তুমব্রু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেয়।
তবে শনিবার সকাল ১২ টার পর গোলাগুলির আওয়াজ বন্ধ হয়ে গেলে আবারও তারা নিজ বাড়িতে ফিরে
যায়।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন,
শনিবার সকালেও একটু গোলাগুলি হয়েছে। তবে বৃষ্টি থাকায় গোলাগুলি বন্ধ হয়ে যায়। বেশির
ভাগ ক্ষেত্রে রৌদ্রময় সময়গুলোতেই গোলাগুলি চলতে দেখা যায়। গতকাল রাতে মায়ানামারের
আকাশসীমায় তাদের যুদ্ধবিমান টহল দিতে দেখা যায়। তবে এদিন দুপুর ১২টার পর থেকে আর কোনো
গোলাগুলি হয়নি। ফলে উত্তেজনা থিতিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
প্রসঙ্গত, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি
উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তে ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে এক মাসের বেশি সময় ধরে দেশটির
নিরাপত্তা বাহিনী বিজিপির সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’র গোলাগুলি চলছে। ২৮ আগস্ট বিকেল ৩টায় মিয়ানমারের যুদ্ধবিমান থেকে ছোঁড়া দুটি
মর্টাসেল বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তের উত্তরপাড়া এলাকায় এসে
পড়ে। ৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম এলাকায়
আরো দুটি মর্টার শেল পড়ে। তবে এতে আর কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।