কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার প্রত্যন্ত দক্ষিণগ্রামের বিলে গোলাপি, সাদা ও হলুদ পদ্মের মোহনীয় রূপ দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ দূর-দূরান্তের লোকজনও আসছেন পদ্মফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে। গবেষকদের মতে এই তিন রঙের পদ্মফুলের মধ্যে হলুদ পদ্ম বিরল প্রজাতির।
স্থানীয় জনসাধারণ জানান, এখানে আগে মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে অথবা পানিতে ভিজে পদ্ম ফুল দেখতে হতো। কিন্তু এখন পদ্মফুল দেখার জন্য বাণিজ্যিক নৌকার ব্যবস্থা রয়েছে। ২০টি নৌকা করে প্রতিদিন কয়েকশ’ দর্শনার্থী পদ্ম ফুল দেখতে আসেন। মাঠের এই অংশটি নিচু। বছরের আট মাস এখানে পানি থাকে। আগেও এখানে পদ্ম ফুল ফুটতো। গত তিন বছর ধরে বেশি ফুল ফুটেছে। প্রতিদিন বহু দূর-দূরান্ত থেকে পদ্মফুলের সৌন্দর্য দেখতে আসেন দর্শনার্থীরা। তবে ছুটির দিন শুক্রবার ও শনিবার দর্শনার্থীর সংখ্যা প্রায় হাজার ছাড়িয়ে যায়।
প্রতিজন ৫০টাকা করে যাত্রী তোলেন নৌকার মাঝিরা। দিনে তাদের ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় হয়। ছুটির দিনে তারা ২০০০ থেকেও বেশি টাকা আয় করে থাকে। তিনি আরো জানান, বিলের জমির মালিকদের প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিয়ে থাকেন তারা।
বুড়িচং উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা বানিন রায় গণমাধ্যমকর্মীদের আরো জানান, দক্ষিণগ্রামের পদ্মবিলে ৫০ একরের মতো জমি রয়েছে। তার মধ্যে ১০/১২ একর জমিতে পদ্ম ফুল ফোটে। শুষ্ক মৌসুমে এখানে বোরো আবাদ হয়। কিছু জমিতে রোপা আমনও চাষ হয়। পদ্মবিলে মানুষের ভিড় লেগে থাকে। এতে মানুষের সময় কাটানোর সাথে স্থানীয়দের আয়ের সুযোগ হয়েছে।
পদ্ম বিল দর্শনকে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠেছে চা-চটপটিসহ বিভিন্ন খাবারের দোকান। গ্রামের মেঠোপথে দর্শকদের নিয়ে আসা বিভিন্ন পরিবহনের সারিও দেখা যায় এখানে। ফুল না ছিঁড়তে মাঠে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়ার আহবান সচেতনদের।
- মা.ফা