চট্টগ্রামের কর্ণফুলী
থানাধীন ইছানগরে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এস. আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ
লিমিটেড কারখানা পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান।
৭ মার্চ বৃহস্পতিবার
দুপুরে তিনি কারখানাটি পরিদর্শন করেন। জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
মো. মামুনুর রহমান, কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা জান্নাত, পরিবেশ অধিদফতরের
জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. ফেরদৌস আনোয়ার, কর্ণফুলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)
পীষুষ কুমার চৌধুরীসহ ফায়ার সার্ভিস, কলকারখানা পরিদর্শন পরিদপ্তর ও কর্ণফুলী থানা
পুলিশের একটি টিম জেলা প্রশাসকের সাথে ছিলেন।
অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত
এস. আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, এস. আলম রিফাইন্ড
সুগার ইন্ডাস্ট্রিজে অগ্নিকান্ডের ৩ দিন পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু
তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে একটি
কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। তদন্ত কমিটিতে যারা আছেন তাদের বাইরেও
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের টেকনিক্যাল এক্সপার্ট হিসেবে রসায়ন বিভাগের শিক্ষককে এ কমিটিতে
সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এস.আলম রিফাইন্ড সুগার কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এখানে যে সুগারগুলো
আছে, সেগুলোর উপরের লেয়ারের ১০-২০ শতাংশ নষ্ট হতে পারে কিন্তু নিচের সুগারগুলো অবিকৃত
ও ইনটেক্ট আছে। এটি রিকভার করার জন্য পরিবেশ, বিএসটিআই, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট যে দপ্তরগুলো আছে সেগুলোর ছাড়পত্র লাগবে।
এ সংক্রান্তে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি মন্ত্রণালয় বা বিভাগকে প্রত্যেককে আমরা চিঠি দিচ্ছি,
যাতে আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে তদন্তের কাজটি যেন শুরু বা শেষ করতে পারেন। তদন্ত কাজ সম্পন্ন
হলে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের রিকভারির কাজটি শুরু করতে পারবেন। বিএসটিআই যদি ক্লিয়ারেন্স
দেন বা আমাদের এখানে সাইয়েন্স ল্যাব আছে, এটি ব্যবহারযোগ্য বা এডিবল যদি হয় সেক্ষেত্রে
চিনি রিকভার করা যাবে কি না সে ক্ষেত্রে হয়তো টেকনিক্যাল কমিটি বা টেকনিক্যাল পরামর্শ
নিতে পারি। সুগার কারখানায় অগ্নিকান্ডের ঘটনার পর পর সিএমপি কমিশনার, ফায়ার সার্ভিসের
ডিজি ও বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে যে টিম আছে সেটিও কাজ শুরু করেছে।
আশাকরি কয়েক দিনের মধ্যেই তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাওয়া যাবে এবং কিভাবে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে তা আমরা বলতে পারবো।
ক্ষতিগ্রস্ত এস. আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের তরল বর্জ্য কর্ণফুলী নদীতে পড়ে গত দুইদিন ধরে ‘বিষক্রিয়ায়’ নির্বিচারে মাছসহ জলজ প্রাণি মরে ভেসে উঠছে-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, চিনি মিশ্রিত লাভাগুলো এখনো ছুঁয়ে ছুঁয়ে আস্তে আস্তে কর্ণফুলী নদী ও অন্যদিকে যাচ্ছে, এগুলো এখনই বন্ধ করার জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। কারখানার পাশেই তাদের জায়গায় কয়েকটি বড় বড় গর্ত করে চিনির তরল বর্জ্যগুলো জমা করে রাখলে সেগুলো আর নদী বা অন্য দিকে যাবে না।
- মা.ফা.