পাহাড়ের আনাচে-কানাচে
যুগযুগ ধরে বসবাসকারী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর রয়েছে নিজস্ব সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য। তারই
চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায় তাদের শিল্পের মাঝে। চাহিদা আর প্রচারণার অভাবে হারিয়ে যেতে
বসেছে এসব শিল্পকর্ম। অথচ কত কিছুই না দেখার আছে এসবের মাঝে। সম্প্রীতি বিপণীতে দেখা
মিলবে এমন সব কুটিরশিল্পের। চট্টগ্রাম খাগড়াছড়ি মহাসড়কে গুইমারা চেকপোস্ট থেকে একটু
আগালেই দেখা মিলবে অপরূপ কারুকার্যে সজ্জিত এই ‘সম্প্রীতি বিপণী’।
৮ নভেম্বর বুধবার
সকালে গুইমারা কলেজ মাঠে সম্প্রীতি বিপণী, গরীবের সুপার শপ ও ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প
কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি ২৯৮ নম্বর আসনের সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা
এমপি। মিস বাসন্তী চাকমা এমপি, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ব্রিগেড কমান্ডার,
বিদ্যানন্দের বোর্ড মেম্বারসহ এলাকার জনপ্রতিনিধিরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
খাগড়াছড়িতে ‘সম্প্রীতি বিপণী’
উদ্বোধনের
পর বিদ্যানন্দের বোর্ড মেম্বার জামাল উদ্দীন বলেন, খাগড়াছড়ি একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র।
পর্যটকদের সামনে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কুটির শিল্পকে তুলে ধরা প্রয়োজন। এতে শিল্প টিকে
থাকার পাশাপাশি বাঁচবে দরিদ্র শিল্পীরা। ইউরোপ আমেরিকায় বেড়াতে গিয়ে ডলার দিয়ে স্যুভেনির
কিনে বসার ঘর সাজাই আমরা। আর দেশের জিনিস দেখলে সস্তা বাঁশ, সুতা বলে শ্রমের দামটাই
দিতে চাই না। তাই সারাদেশে ঘুরে-ঘুরে কুঠির শিল্পগুলো বাঁচাতে চাচ্ছে বিদ্যানন্দ।
সম্প্রীতি বিপণীর
দু’টি অংশ - সুবিধাবঞ্চিতদের
জন্য দাতব্য অংশ এবং সচ্ছল/টুরিস্টদের জন্য বাণিজ্যিক অংশ। তবে বাণিজ্যিক অংশ খুব ছোট
স্কেলে হবে। সেনাবাহিনী, সিভিল প্রশাসন কিংবা স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীর গাইডেন্সে এলাকার
দুঃস্থ জনসাধারণের মাঝে টোকেন/কার্ড দেয়া হবে। নির্ধারিত সে টোকেনে নির্দিষ্ট দিনে
এসে রেশনপণ্য নিয়ে যেতে পারবে নামমাত্র (এক দুই টাকা) মূল্যে। মাসিক রেশনের নির্দিষ্ট
টোকেন থাকবে যা শুধুমাত্র নিঃসন্তান বিধবা, অসহায় বৃদ্ধ (যাদের দেখভাল করার কেউ নেই
বা সন্তান দেখাশোনা করে না)। তারা নির্দিষ্ট তারিখে এসে রেশন নিয়ে যাবেন। এ সেবাটি
মূলত দূর্গম এলাকার মানুষের জন্য। এক্ষেত্রে তাদের পরিবহন খরচও বহন করবে সম্প্রীতি
বিপণী।
বাণিজ্যিক অংশের
কুটিরশিল্প-পণ্য গুইমারা-স্টোরের পাশাপাশি পাওয়া যাবে ভ্রাম্যমাণ গাড়ি থেকে। এ গাড়িটি
পণ্য নিয়ে ছুটির দিনে থাকবে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন পর্যটন স্পটে। বিক্রয়কৃত পণ্যের অংশ
থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ চ্যারিটি অংশে খরচ করা হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর তৈরীকৃত কুটিরশিল্প-পণ্যের
পাশাপাশি থাকবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অসহায় নারী যেমন পাহাড় ও রোহিঙ্গা শরণার্থী নারীদের
তৈরী পণ্য। এ ছাড়া গুইমারা রিজিয়ন ও বিদ্যানন্দের বিভিন্ন প্রজেক্টের উৎপাদিত পণ্যও
থাকবে সম্প্রীতি বিপণীতে।
সম্প্রীতি বিপণী উদ্বোধন উপলক্ষে এদিন আয়োজন করা হয় ‘গরীবের সুপারশপ’। যেখান থেকে নিম্ন আয়ের কয়েকশত পরিবার স্বাধীনভাবে বাজার করেছে। এক টাকায় চাল, দুই টাকায় ডাল এভাবে প্রতি পরিবারকে দেয়া হয়েছে ১০ টাকার পণ্য, যার বাজার মূল্য ৫০০-৬০০ টাকা। পাশাপাশি বিদ্যানন্দ ও সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন গাইনী, শিশু-বিশেষজ্ঞ ও ডেন্টিস্টরা। যেখানে চিকিৎসা ও বিনামূল্যে ওষুধ পেয়েছেন কয়েকশত রোগী।
- ই.হো