দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর দায়ের করা একটি মামলায় চট্টগ্রামের সাবেক
সিভিল সার্জন ডা. সরফরাজ খান চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে চট্টগ্রামের একটি
আদালত।
বাড়তি দামে চিকিৎসা যন্ত্রপাতি কিনে ৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে
দুদক এ মামলা দায়ের করেছে।
অভিযুক্ত ডা. চৌধুরী গতকাল রোববার মহানগর দায়রা ও স্পেশাল জজ ডা. বেগম
জেবুন্নেছার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু আদালত উভয়পক্ষের শুনানিশেষে
জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন: চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট
(মেডিসিন) ডা. মো. আব্দুর রব, জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক সার্জারি) ডা. মো. মইন
উদ্দিন মজুমদার, সিনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি) ডা. বিজন কুমার নাথ, যন্ত্রপাতি সরবরাহকারী
প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানির স্বত্বাধিকারী মো. জাহের
উদ্দিন সরকার, মেসার্স আহম্মদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মুন্সী ফারুক হোসেন এবং
এএসএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আফতাব আহমেদ।
মহানগর পিপি মো. ফখরুদ্দিন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ২০১৪ সালে
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের জন্য ৬ কোটি ১৫ লাখ ৩০ হাজার ৪২৫ টাকায় একটি এমআরআই মেশিন
কেনা হয়, যার বাজার মূল্য মাত্র দুই কোটি টাকা। একইভাবে চারটি কালার ডপলার কেনা হয়
প্রতিটি ২ কোটি ৬০ লাখ টাকায় , যদিও এই মেশিনের দাম মাত্র ৯৮ লাখ টাকা। এভাবে বাজার
মূল্যের চেয়ে দুই-তিনগুণ বেশি দাম দেখিয়ে মোট ৯ কোটি ১৫ লাখ ৩০ হাজার ৪২৫ সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৯-এর ২৫ নভেম্বর
সাতজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন দুদক সমন্বিত কার্যালয় চট্টগ্রাম ১-এর সহকারী পরিচালক
মোহাম্মদ সিরাজুল হক।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের জন্য যন্ত্রপাতি
কেনার ক্ষেত্রে এ দুর্নীতি হয়েছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। ওই সময়ে ডা. সরফরাজ
খান চৌধুরী চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জনের পাশাপাশি চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের
তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেছিলেন।